গাইড বই নিয়ে প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের মারামারি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জামালপুর
প্রকাশিত: ০৬:২৫ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮
গাইড বই নিয়ে প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের মারামারি

গাইড বই সাজেশন নিয়ে শিক্ষকদের দু’গ্রুপের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। বিরোধকে কেন্দ্র করে সহকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন, হামলা, ভাঙচুর, প্রধান শিক্ষককে মারধর এবং অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের চাপারকোনা মহেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত লেকচার ও সংসদ পাবলিকেশন্স এই দুটি গাইড বই সাজেশন পাঠদানের সিদ্ধান্ত নিয়ে সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের বিরোধ চলে আসছে। সহকারী শিক্ষকরা ও শিক্ষার্থীরা চায় সংসদ, কিন্তু প্রধান শিক্ষক এককভাবে চায় লেকচার পাবলিকেশন্স।

এ নিয়ে বিদ্যালয়ে এক সভায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে সংসদ পাবলিকেশন্স গাইড বই সাজেশনটি সিদ্ধান্ত নেয় এবং রেজুলেশন করা হয়। এ সিদ্ধান্ত হলেও মেনে নেননি প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ে প্রথম ক্লাস চলাকালে প্রধান শিক্ষক প্রতিটি ক্লাসে গিয়ে লেকচার পাবলিকেশন্স গাইড বই সাজেশন কেনার জন্য লিফলেট বিতরণ করেন। এতে সহকারী শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ক্লাস বর্জন করেন। এতে সমর্থন দেয় শিক্ষার্থীরাও। এরপর শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষককের পদত্যাগ দাবি করে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে। তাদের বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে অফিস কক্ষে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে মারধর করে এবং নিচ তলা গেটে তালা ঝুলিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা।

পরে পুলিশ গিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে। এ ঘটনা জানতে চাইলে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দেন প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা।

বাংলা বিষয়ক সহকারী শিক্ষিকা জেবুন্নাহার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত সংসদ পাবলিকেশন্স গাইড বই সাজেশন চলে আসছে। প্রধান শিক্ষক লেকচার পাবলিকেশন্স থেকে মোটা অংক হাতিয়ে নিয়ে লেকচার গাইড বই সাজেশন চালিয়ে যেতে চায়। এর জন্য ক্লাস বর্জন করে তার প্রতিবাদ জানিয়েছি।

প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের উস্কিয়ে দিয়েছে সহকারী শিক্ষকরা। এর ফলে তাকে লাঞ্ছিতসহ হামলা ভাঙচুর করেছে শিক্ষার্থীরা।

শুভ্র মেহেদী/এমএএস/আইআই