ভাতিজাকে হত্যার বর্ণনা দিলেন চাচা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ০৯:১২ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার প্রতিবন্ধী আরিফ হোসেনকে তার চাচা ইয়াকুতের নির্দেশ ও পরিকল্পনায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ইয়াকুত ও অপর আসামি তোফায়েল আহমদ ওরফে বল্লাদ।

স্বীকারোক্তিতে তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সিএনজিচালক শামসুলসহ মোট ৫ জন জড়িত ছিল বলে জানায়। প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্যই আরিফকে হত্যার পরিকল্পনা করে ইয়াকুত।

বৃহস্পতিবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ের লিখিত বক্তব্যে পিবিআই পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন এসব তথ্য জানান।

এ সময় মামলার পুনঃতদন্তকারী পিবিআই পুলিশের এসআই শিবিরুল ইসলামসহ অন্যান্য পিবিআইয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন জানান, ২০১৭ সালের ২৪ জুন শ্রীমঙ্গলের হাজীপুর গ্রামের একই বাড়ির পল্লীচিকিৎসক আব্দুল খালিক ও আরবেশ আলীর পরিবারের মহিলাদের মধ্যে থালাবাসন ধোয়াকে কেন্দ্র করে মারামারি ও ঢিল ছোড়া-ছুড়ির ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর আরিফ হোসেন (১৮) নামের এক প্রতিবন্ধী শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রতিবন্ধীর বাবা আরবেশ আলী বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় ১৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় এসআই রফিকুল ইসলামকে। তদন্ত শেষে তিনি এ ঘটনায় এজাহারনামায় ১৫ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। সেই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত না থাকায় ৩ আসামির নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেন। ৩ জনের নাম বাদ পড়ায় বাদীপক্ষ আদালতের কাছে চার্জশিটের ওপর নারাজি ও অধিকতর তদন্তের আবেদন করেন।

আদালত মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন। পিবিআই তদন্তের একপর্যায়ে সাক্ষ্য-প্রমাণের ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনামতে প্রতিবন্ধীর চাচা মো. ইয়াকুতকে গ্রেফতারপূর্বক আদালতের কাছে সোপর্দ করে এবং তার রিমান্ড চায়।

আদালত ইয়াকুতের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। রিমান্ডে ইয়াকুত নিজে এ হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তোফায়েল আহমদ ওরফে বল্লাদ, জুনায়েদ, বেলাল ও সিএনজিচালক শামসুল হকের জড়িত থাকার কথা বলে। ইয়াকুতের স্বীকারোক্তিতে গত ১৬ জানুয়ারি তোফায়েল আহমদকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর তোফায়েল পুলিশের কাছে আরিফ হোসেন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং ঘটনার পূর্ণ বিবরণ দেয়।

এএম/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :