গোপালগঞ্জে চার্চের পালকের ওপর হামলার অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি গোপালগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৭:৪৬ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০১৮

গোপালগঞ্জে সেন্ট মথুরানাথ এজি চার্চের পালকসহ তিনজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকালে স্থানীয় লোকজন এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

আহতরা হলেন- চার্চের পালক অনুকুল বিশ্বাস (৫৫), মিতুল বালা (৪৫) ও নথনিয়েল রায় (৫৭)।
আহত মিতুল বালাকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং পালক অনুকুল বিশ্বাস ও নথনিয়েল রায়কে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় চার্চের পালক অনুকুল বিশ্বাস বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ করেছেন।

এদিকে চার্চের পালকসহ তিনজনের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে জেলা খ্রিষ্টান ফেলোশিপের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে স্থানীয় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের লোকজন। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও পরে বঙ্গবন্ধু সড়কে মানববন্ধন করে তারা। এ সময় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

অপরদিকে জেলা খ্রিষ্টান ফেলোশিপের পক্ষ থেকে বিষয়টি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গোপালগঞ্জ পৌরসভার মেয়রকে অবহিত করা হয়েছে।

সেন্ট মথুরানাথ এজি চার্চের পালক অনুকুল বিশ্বাস বলেন, সেন্ট মথুরানাথ চার্চে সপ্তাহব্যাপী ৩৮তম মহাসম্মেলনের ৬ষ্ঠ দিনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠানে ভক্তবৃন্দের আপ্যায়নের জন্য চার্চের পুকুর থেকে মাছ ধরতে গেলে স্থানীয় কিছু লোক আকস্মিকভাবে আমার ওপর হামলা চালায়। এ সময় মিতুল বালা প্রতিবাদ করলে তারা তাকে বেধড়ক মারপিট করে। হামলাকারীরা গির্জা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকে চেয়ার টেবিল ভাঙচুর ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে সম্মেলন পণ্ড করে দেয়।

গোপালগঞ্জ খ্রিষ্টান ফেলোশিপের সভাপতি স্যামুয়েল এস বালা বলেন, আমি বাসভবনে গিয়ে জেলা প্রশাসককে বিষয়টি অবহিত করেছি। তিনি আমাকে সন্ধ্যায় তার কার্যালয়ে বসে বিষয়টি সমাধান করে দেবেন বলে আশ্বস্ত করেন। পাশাপাশি তিনি আমাদের আন্দোলন প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন। জেলা প্রশাসকের অনুরোধে আমরা আন্দোলন সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করি।

এ ব্যাপারে খ্রিষ্টানপাড়ার বাসিন্দা শেখ সিরু বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছি। পুকুরটি নিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) অধীনে একটি মিস কেস ( যার নং-৩৫/১৬-১৭) রয়েছে। তারা (খ্রিষ্টানরা) পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পুকুর থেকে মাছ ধরতে নামলে এলাকার জুনিয়ররা তাদের বাধা দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতহাতি হয়। পরবর্তীতে আমরা তাদের শান্ত করি।

এস এম হুমায়ূন কবীর/আরএআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :