জঙ্গি রবিনের লাশ গ্রহণে পরিবারের অনিহা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শেরপুর
প্রকাশিত: ০৮:৩২ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০১৮

রাজধানী ঢাকার পশ্চিম নাখালপাড়ার ‘রুবি ভিলা’ ভবনের ৫ম তলার জঙ্গি আস্তানায় নিহত জঙ্গি রবিন (১৪) কাউকে কিছু না বলেই বাড়ি থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল। রবিনের বড় ভাই গোলাম মোস্তফা রোববার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে গিয়ে রবিনের লাশ শনাক্ত করেন। তবে তার লাশ গ্রহণে অনিহা প্রকাশ করেছেন তিনি।

সোমবার বিকেলে শেরপুরের নকলা উপজেলার কুর্শাবাদাগৈড় এলাকার রবিনের বাড়িতে গেলে এমন কথাই জানিয়েছেন তার মা ও বড় ভাই।

রবিনের মা মালেকা বেগম জানান, ভেবেছিলাম ছেলে হয়তো ইজতেমায় কিংবা আত্মীয় বাড়ি গেছে, শিগগিরই ফিরে আসবে। এমন আশায় বুক বেঁধেছিলাম। কিন্তু এখনতো সব শেষ হয়ে গেল। তিনি বলেন, আমার কোলের বাচ্চা, মহব্বত আছে। কিন্তু লাশ দিয়া আমরা কী করমু। শিশু বাচ্চা, হেরাই যদি দাফন করে করুক।

নিহত রবিনের বড় ভাই গোলাম মোস্তফা জানান, তিনি ও তার বোন জামাই মো. আলামীন ঢাকায় মর্গে গিয়ে রবিনের লাশ শনাক্ত করেছেন। রবিনের লাশ শেরপুর নিয়ে আসার বিষয়ে তিনি জানান, র‌্যাব থেকে বলা হয়েছে লাশ গ্রহণের বিষয়ে পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা।

তিনি বলেন, আমাদেরতো থাকনেরও জায়গা নাই। ভাড়া বাসায় থাহি। কোডায় লাশ মাডি দিুম। তাই আমরা রবিনের লাশ নিতে চাই না। কিন্তু যারা রবিনেরে ‘জঙ্গি’ বানাইলো আমরা তাদের বিচার চাই। যাতে আর কারো এমন সর্বনাশ না ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, তিন ভাই এক বোনের মধ্যে রবিন ছিল সবার ছোট। সে স্থানীয় নকলা শাহরিয়া মাদরাসায় ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষে নকলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও ভাইয়ের সঙ্গে ব্যবসায় জড়িত হওয়ার কারণে আর পড়ালেখা হয়নি। সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা ফজর আলীর মৃত্যুর পর সংসারে অভাব অনটন দেখা দিলে ২০১৩ সালে বড় ভাই গোলাম মোস্তফার সঙ্গে চালের ব্যবসায় যুক্ত হন রবিন।

এ বিষয়ে শেরপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মোবাইল ফোন, ফেসবুক ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। আমি কার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছি, কোথায় লাইক, কমেন্ট করছি, আমাকে কোন দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো বিষয়ে সন্দেহ হলে প্রয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেয়া যেতে পারে।

হাকিম বাবুল/এমএএস/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :