পাঁচ দিন পর বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর সচল
টানা ৫ দিন বন্ধ থাকার পর সোমবার বিকেল থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পুনরায় আমদানি-রফতানি চালু হয়েছে। এতে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর এলাকায়।
প্রধান সড়কের উপর যেসব ট্রাক পণ্য নিয়ে এ ক’দিন দাঁড়িয়ে ছিল সেসব কাঁচামাল পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাংলাদেশে রফতানি করছে ভারতীয় কাস্টমস ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা।
আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে পুরোদমে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চালু হবে বলে ওপারের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত একটানা ৫ দিন বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দু’দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বন্ধ ছিল। ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে কারপাসসহ কাস্টমস কর্মকর্তাদের হয়রানির প্রতিবাদে আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দেয় পেট্রাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। ফলে দু’দেশের বন্দর এলাকায় আটকা পড়েছে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক। যার অধিকাংশই বাংলাদেশের শত ভাগ রফতানিমুখী গার্মেন্ট শিল্পের কাঁচামালসহ পচনশীল পণ্য রয়েছে।
ওপারের সিএন্ডএফ এজেন্টস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর থেকে পেট্রাপোলে বন্দরে দফায় দফায় বৈঠক করেন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ফলপ্রশ্রু আলোচনার এক পর্যায়ে আগের নিয়মে রফতানি কার্যক্রম চালানোসহ সংযত হয়ে দেশের রাজস্ব আয়ের দিকে লক্ষ্য রেখে সবাইকে নমনীয় হয়ে কাজ করার আহ্বান জানানোর পর বন্দরে কাজ করতে সম্মতি জানান সকলে। পরে বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে আমদানি-রফতানি চালু করা হয়।
ভারতের পেট্রাপোল চেকপোস্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী জানান, ত্রিপক্ষীয় ফলপ্রশ্রু আলোচনা শেষে আমাদের ন্যায়সঙ্গত দাবি মেনে নেয়ায় আমরা বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে পেট্রপোল-বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চালু করেছি। যে সব ট্রাক সড়কের উপর দাঁড়িয়ে ছিল ও পচনশীল পণ্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সোমবার দেয়া হবে। মঙ্গলবার সকাল থেকে পুরোদমে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চলবে।
বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ট্রাফিক) আমিনুল ইসলাম জানান, সোমবার বিকেল থেকে আমদানি-রফতানি সচল হয়েছে।
জামাল হোসেন/এমএএস/আরআইপি