গাইবান্ধায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ওষুধের দোকান বন্ধ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৯:১৯ এএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

গাইবান্ধা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের এক নেতার বোনের সঙ্গে কথা কাটাকাটির জের ধরে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গাইবান্ধার সকল ওষুধের দোকান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি গাইবান্ধা জেলা শাখার ডাকে ওষুধের দোকানগুলো বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনরা।

গাইবান্ধা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ, ওষুধ ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তানজিল আহমেদ মোনার বোন শারমিন আক্তার ও ছোট ভাই হারুন মিয়াকে বহনকারী ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকসা বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের ডিবি রোডের বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল সংলগ্ন ওষুধের দোকান আরকে ট্রেডিংয়ের সামনে এসে থামে। অটোচালক আর যেতে না চাওয়ায় তাদের সঙ্গে অটোচালকের কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। পাশেই দোকান থেকে আরকে ট্রেডিংয়ের স্বত্তাধীকারী রুহুল আমিন এগিয়ে গিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শারমিন আক্তার তাকে ধাক্কা দেন। এরপর ক্ষিপ্ত হয়ে রুহুল আমিন তাকে থাপ্পড় মারেন।

পরে খবর পেয়ে তানজিল আহমেদ মোনাসহ কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন মামুন ও অন্যান্য নেতাকর্মীরা আরকে ট্রেডিংয়ে যান। ওষুধ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গেলে আশপাশের ওষুধ ব্যবসায়ী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় পথচারীরা জড়ো হতে থাকলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখান থেকে বের হয়ে সদর থানায় গিয়ে একটি অভিযোগ দেন শারমিন আক্তার।

পরে সন্ধ্যার দিকে সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান পিয়ারুল ইসলাম ও সদর থানার এক পুলিশ সদস্য এবং সাইফুল ইসলামসহ আরো কয়েকজন ওষুধ ব্যবসায়ী সমাধানের উদ্দেশ্যে থানায় যাওয়ার সময় জেলা পরিষদের গেটের উত্তর পাশে দু'পক্ষের মারামারি হয়। এতে সাইফুল ইসলাম আহত হলে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও শাস্তি দাবি করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সন্ধ্যায় জেলা শহরের এক নম্বর ট্রাফিক মোড়ে গিয়ে সমাবেশ করেন। অপরদিকে কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি জরুরি সভা করে সাইফুল ইসলামের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতার ও সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত জেলার সকল ওষুধের দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে করে ওষুধ কিনতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি রোগীরা।

বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি মো. আব্দুর রশিদ বলেন, সন্ধ্যায় সমিতির সাধারণ জরুরি সভা আহ্বান করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সমিতির সাধারণ সম্পাদকের উপর যারা হামলা করেছেন তাদের গ্রেফতার ও সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত জেলার সমস্ত ওষুধের দোকান বন্ধ থাকবে। আমরা থানায় অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. শাহরিয়ার বলেন, এ ঘটনায় শারমিন আক্তার নামের একজন অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

রওশন আলম পাপুল/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।