ওষুধ না পেয়ে গাইবান্ধার রোগীরা যাচ্ছেন রংপুরে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ১১:৪৩ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
ওষুধ না পেয়ে গাইবান্ধার রোগীরা যাচ্ছেন রংপুরে

গাইবান্ধায় ছাত্রলীগ এবং ওষুধ ব্যবসায়ীদের দ্বন্দ্বে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েও ওষুধ না পাওয়ায় শুক্রবার বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে দুইজন শিশু রোগীকে রেফার্ড করা হয়েছে। এদের মধ্যে দু’জনেরই বয়স একদিন করে।

এদের মধ্যে একজনের নাম বাবু। সে সাঘাটা উপজেলার উল্ল্যা সোনাতলা গ্রামের তৌহিদুল ইসলামের ছেলে। অপরজনের নামও বাবু। তার বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। এ ছাড়া ওষুধের দোকান বন্ধ থাকায় হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনরা বিপাকে পড়েছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে দায়িত্বরত ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার (ইএমও) ডা. সোহেলী সৈয়দ বলেন, ওষুধ সংকটের কারণে শুক্রবার বিকেলে দুইজন শিশুকে রমেকে রেফার্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে ও অপরজন বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে জন্ম নেয়। তাদের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ওষুধ হাসপাতালে না থাকায় ও বাইরের সকল ওষুধের দোকান বন্ধ থাকায় তাদেরকে রমেকে রেফার্ড করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন হাসপাতাল ভর্তি ছিল ও অপরজনকে জরুরি বিভাগ থেকেই রেফার্ড করা হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে সকল ওষুধের দোকান বন্ধ দেখা গেছে। এ ছাড়া কয়েকজন রোগীকে গাইবান্ধার কোনো হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি না করে সরাসরি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ কারণে হাসপাতাল ও এর আশেপাশে কোনো অ্যাম্বুলেন্স দেখা যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদর হাসপাতালের কয়েকজন রোগীর স্বজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলের আগে ওষুধের দোকান থেকে যে ওষুধ কিনে এনেছি তা আজই শেষ হয়ে যাবে। শনিবার তারা কোথায় ওষুধ পাবেন তা তারা জানেন না। শনিবারের ওষুধের জন্য অনেকে আবার আজকেই ছুটছেন শহরের বাইরে গ্রামাঞ্চলে ও রংপুরের দিকে।

বাংলাদেশ ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াৎ হোসেন বিপ্লব মুঠোফোনে জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের কাছে ওষুধের যে জরুরি মজুদ আছে, সেসব শেষের দিকে। অনতিবিলম্বে এর একটি সুরাহা হওয়া উচিত। তা না হলে আমাদের রোগী নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে।

বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি মো. আব্দুর রশিদ মুঠোফোনে জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের উপর হামলাকারী ও জীবননাশের চেষ্টাকারীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত জেলার সমস্ত ওষুধের দোকান বন্ধ থাকবে।

গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল মুঠোফোনে জাগো নিউজকে বলেন, আমরা চেষ্টা করছি উভয় পক্ষকে বুঝিয়ে সমাধান করার জন্য। দুই পক্ষ থেকেই মামলা হয়েছে। এটা আইনের মাধ্যমেই সমাধান হবে। ওষুধের দোকানগুলো খুলে দেওয়ার জন্য আমরা বলছি, আমরা চেষ্টা করছি সমাধান করতে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের উপর হামলাকারী ও জীবননাশের চেষ্টাকারীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গাইবান্ধার সমস্ত ওষুধের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষনা দেয় সংগঠনটি। এর আগে গাইবান্ধা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তানজিল আহমেদ মোনার বোন শারমিন আক্তারের সাথে কথা কাটাকাটির সূত্র ধরে ছাত্রলীগের সাথে ওষুধ ব্যবসায়ীদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

রওশন আলম পাপুল/এআরএস