এক রাস্তায় লক্ষাধিক মানুষের ভোগান্তি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৯:০৮ পিএম, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর বাজার থেকে চন্ডিপুর ইউনিয়নের উজান বোচাগাড়ী গ্রাম পর্যন্ত পাকা রাস্তাটি বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।

দীর্ঘদিন থেকে কোনো মেরামত না করায় কার্পেটিং (পিচ) উঠে গিয়ে বর্তমানে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ভোগান্তিতে পড়েছে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ।

Gaibandha

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৫ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে ১৩ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী। এই রাস্তাটি দিয়ে হরিপুর, কাপাসিয়া, চন্ডিপুর, শ্রীপুর, কঞ্চিবাড়ী এই পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করে। রিকসা-ভ্যানযোগে এক কিলোমিটার রাস্তা যেতে লাগে প্রায় ৭ থেকে ৮ মিনিট। প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় থেকে রাস্তাটির এই বেহাল দশা হলেও রাস্তাটি মেরামতে নেয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ।

রাস্তার বেহাল দশার কারণে আরও বেশি বিপাকে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কৃষি জমি থেকে উৎপাদিত ফসল পরিবহনে বেশি টাকা গাড়ি ভাড়া দিতে হয়। এতে করে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া যানবাহন চলাচল করার সময় সমস্যায় পড়তে হয় চালকদের।

Gaibandha

সরেজমিনে গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে রাস্তাটি ঘুরে দেখা গেছে, ধর্মপুর বাজার থেকে উজান বোচাগাড়ী গ্রাম পর্যন্ত প্রায় সম্পূর্ণ রাস্তাটিরই কার্পেটিং (পিচ) উঠে গেছে। ফলে চলাচলে মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

অপরদিকে উজান বোচাগাড়ী বাঁধো মাথা থেকে হরিপুর খেয়াঘাট পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তাটিও চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পরেছে। বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানি এসে রাস্তাটি একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে।

চন্ডিপুর ইউনিয়নের উজান বোচাগাড়ী গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে চলাচলে আমাদেরকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ১০ মিনিটের রাস্তা যেতে সময় লাগছে ২০ মিনিট। ভাড়াও দিতে হচ্ছে বেশি টাকা। আর যাত্রাপথে রিকসা-ভ্যানের যন্ত্রাংশ ভেঙে ঘটছে দুর্ঘটনা। মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে খুব দ্রুত রাস্তাটি মেরামত করা প্রয়োজন।

Gaibandha

শ্রীপুর ইউনিয়নের বোয়ালী গ্রামের রিকসাচালক মফিজুল হক বলেন, রাস্তার বেহাল দশার কারণে রিকসা চালিয়ে শান্তি পাইনা। সময় বেশি লাগে। আর প্রায় প্রতি সপ্তাহেই রিকসা ঠিকঠাক করতে হয়। এর পেছনেই অনেক টাকা ব্যয় হয়।

চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো. রাশেদুল ইসলাম মুঠোফোনে জাগো নিউজকে বলেন, বারবার উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন মিটিংয়ে আলোচনা করেও কোনো সমাধান করা হয়নি।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল মুনসুর মুঠোফোনে জাগো নিউজকে বলেন, রাস্তাটি প্রস্থে আর বাড়ানো হবে না। রাস্তার যে মাপ আছে শুধু তার উপরে নতুন করে কার্পেটিং (পিচ) করা হবে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে কাজ শুরু করা হবে। এ ছাড়া উজান বোচাগাড়ী বাঁধের মাথা থেকে হরিপুর খেয়াঘাট পর্যন্ত কাঁচা রাস্তাটিরও টেন্ডার হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি কাজ শুরু করা হবে।

রওশন আলম পাপুল/এমএএস/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :