সোনারগাঁয়ে যুবলীগ কর্মীকে বালু ভরাট নিয়ে হত্যা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৯:৪২ এএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
নিহত যুবলীগ কর্মী মোহাম্মদ আলী

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের বিরোধের জের ধরে যুবলীগ কর্মী মোহাম্মদ আলীকে (৩০) কুপিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেফতার ইউপি সদস্য মো. মোশারফ হোসেন।

সোমবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় মোশরফের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। তিনি আদালতকে জানিয়েছেন, বালু ভরাটে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবলীগ কর্মী মোহাম্মদ আলীকে হত্যা করা হয়েছে।

গ্রেফতার মোশারফ হোসেন পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম জানান, মোশারফ কিলিং মিশনে থাকা ও নির্দেশদাতা অনেকের নাম প্রকাশ করেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে নামগুলো প্রকাশ করা যাবে না।

জানা গেছে, গত ৩ জানুয়ারি রাতে সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর এলাকাতে বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের বিরোধের জের ধরে মোহাম্মদ আলী (৩০) নামে যুবলীগের এক কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক পিরোজপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য মোশারফ হোসেন, জসিম, আব্দুল হামিদ, শহিদুল্লাহ, হাবিবুর রহমান ও শামীম সরকার নামে ছয়জনকে গ্রেফতার করে। পরে ওই ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে মামলাটি ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে।

ঘটনার পরে সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ওবায়েদ জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা জানিয়েছে- মোহাম্মদ আলীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার মিশনে ছিল ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল।

নিহত মোহাম্মদ আলী উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম কান্দারপাড় এলাকার মৃত আরজান আলীর ছেলে। তিনি যুবলীগের রাজনীতি করলেও কোনো পদ ছিল না। তবে তিনি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন। মোহাম্মদ আলী পিরোজপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জাকির হোসেনের ভাগ্নে। তিনি তার মা শিউলী বেগমের সঙ্গে নানা মৃত মমতাজ উদ্দিনের বাড়িতে বসবাস করতেন।

শাহাদাত হোসেন/আরএআর/জেআইএম