সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন সেই মেয়র
ঠাকুরগাঁওয়ের সাংবাদিক খুরশিদ আলম শাওনকে ‘কেটে ফেলার’ হুমকি দেয়ার ঘটনায় সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন মেয়র আলমগীর সরকার।
বুধবার বিকেলে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চান রাণীশংকৈল পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আলমগীর সরকার।
রাণীশংকৈলে জাইকার রাস্তা সংস্কারে অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে 'প্রতিদিনের সংবাদ' পত্রিকার রাণীশংকৈল উপজেলা প্রতিনিধি খুরশিদ আলম শাওনকে মুঠোফোনে ‘কেটে ফেলার’ হুমকি দিয়েছিলেন এ মেয়র। এছাড়া মেয়র আলমগীর সরকার সাংবাদিকতা পেশা নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্যও করেন।
এরপর বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এসব বিষয় নিয়ে মঙ্গলাবার রাণীশংকৈলের সাংবাদিকরা ‘কলম বিরতি’ কর্মসূচিও পালন করে।
বুধবার বিকেলে রাণীশংকৈল উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা খন্দকার মো. নাহিদ হাসানের তত্ত্বাবধানে তার কার্যালয়ে সাংবাদিক নেতা, মেয়র ও রাজনৈতিক নেতাসহ সুশীল সমাজের ব্যক্তিদের নিয়ে মিমাংশা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের এক পর্যায়ে মেয়র আলমগীর সরকার তার ভুল স্বীকার করে 'প্রতিদিনের সংবাদ' পত্রিকার রাণীশংকৈল উপজেলা প্রতিনিধি খুরশিদ আলম শাওনসহ সাংবাদিক নেতাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এরপর সাংবাদিকরা বিষয়টি সমাধান করে নেন।
রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মো. নাহিদ হাসান বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে চাই। এখানে সাংবাদিককে হুমকি দেয়ার বিষয়টি নিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তাই উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি সমাধান করে দেয়া হয়েছে।
মিমাংশা বৈঠকে রাণীশংকৈল থানার ওসি আব্দুল মান্নান, রাণীশংকৈল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল হক, জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল মজিদ আপেল, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু তোরাব মানিক, ঠাকুরগাঁও টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফিরোজ আমিন সরকার, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানু, ঠাকুরগাঁও অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি মো. শাকিল আহমেদ, রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবের সভাপতি মোবারক আলীসহ সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সুশীল সমাজের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
রবিউল এহসান রিপন/এফএ/আরআইপি