চকরিয়ার আঞ্চলিক সড়ক গিলছে নদী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১০:৩৭ এএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ১২:১১ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
চকরিয়ার আঞ্চলিক সড়ক গিলছে নদী

কক্সবাজারের চকরিয়ার কোনাখালী-বাঘগুজারা-বদরখালী আঞ্চলিক সড়কটি গিলে খাচ্ছে মাতামুহুরী নদী। বর্ষাকালের বন্যা ও ঢলের তীব্রতায় সড়কটির কোনাখালীর একাধিক পয়েন্ট ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে। এতে সংকীর্ণ হয়ে গেছে বিশাল অংশ। ফলে চরম ঝুঁকি নিয়েই চলছে অসংখ্য যানবাহন। আসন্ন বর্ষার আগে সড়কটি মেরামত করা না গেলে বাকি অংশটুকুও মাতামুহুরী নদীতে বিলিন হতে পারে এমনটি শংকা স্থানীয়দের।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, এ সড়কটি দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীসহ উপকূলের গ্রামগুলোতে যাতায়তের উল্লেখযোগ্য পথ। এটি আবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত মাতামুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও। আকারে বড় এবং টেকসই চিন্তা করে চলাচলের সুবিধার্থে বাঁধটি সড়ক হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

চলাচল উপযোগিতা দিতে ২০০৪ এবং ২০০৯ সালে দু’দফায় সড়কটিতে কার্পেটিং ও ঢালাইয়ের কাজ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। এরপর ভালোই চলছিল। কিন্তু বিগত সময়ে একাধিক ভয়াবহ বন্যা, তীব্র ঢল ও জোয়ারের তোড়ে সড়কটির বিভিন্নাংশ ভেঙে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে। আর সেটা মেরামত বা সংস্কারে কেউ এগিয়ে না আসায় চরম ঝুঁকির মধ্যে যান ও জন চলাচল করছে।

এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, চিরিঙ্গা-জনতা মার্কেট হয়ে কোনাখালী ইউনিয়ন পর্যন্ত সড়কটি মোটামুটি যান চলাচল উপযোগী রয়েছে। কিন্তু কোনাখালীর বাঘগুজারাস্থ মাতামুহুরী নদীর সেতু থেকে বাংলাবাজার হয়ে বদরখালী বাজার পর্যন্ত প্রায় ১২-১৫ কিলোমিটার সড়কটি মাতামুহুরী নদীর তীর। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায়ই ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত সড়কটির কিনারাংশ নদীতে বিলিন হয়েছে। একাধিক স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানা-খন্দকের। এতে যান ও জনচলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বেশি সমস্যার সম্মুখিন হতে হয় কোনাখালী ইউনিয়নের সিকদার পাড়া এবং বাংলাবাজারের পশ্চিম এলাকায়। এখানে সড়কের অর্ধেকাংশ নদীগর্ভে বিলিন হয়ে একেবারে সংকুচিত হয়ে গেছে।

সড়কে চলাচলকারীদের অভিযোগ, মাতামুহুরী নদীর দু’তীরের বিভিন্ন পয়েন্ট প্রভাবশালীরা দখলে নিয়ে দোকানপাট ও মাছের ঘের নির্মাণ করায় নদীতে পানির প্রবাহ বাধার মুখে পড়ে। এতে একদিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং অপরদিকে অস্বাভাবিক সামুদ্রিক জোয়ারের পানির তোড়ে সড়কটি বার বার ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে। কিন্তু এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাথা ব্যাথা নেই।

কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার বলেন, কোনাখালীর বাঘগুজারা-বদরখালী সড়কটি আমার ইউনিয়নের রক্ষাকবচ। এটি বর্তমানে যানবাহন চলাচলের সড়ক হলেও একসময় ছিল কেবল নদীর বাঁধ। বিকল্প চলাচলের সুবিধার্থে এটিকে সড়কে রূপান্তর করে এলজিইডি। কিন্তু বন্যা, ঢল এবং জোয়ারের প্রভাবে সড়কটি নদীতে বিলিন হচ্ছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। ঘটছে নানা দুর্ঘটনাও।

চকরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী রনি সাহা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষত-বিক্ষত হওয়ায় সড়কটি টেকসইভাবে নির্মাণে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাঘগুজারা থেকে বদরখালী পর্যন্ত সড়কটির প্রস্তাবনা প্রেরণ ও দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/আরআইপি