নওগাঁয় কমেছে চালের দাম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৬:২৬ পিএম, ১৪ মার্চ ২০১৮

নওগাঁয় খুচরা ও পাইকারি বাজারে সব ধরনের চালের দাম কমেছে। সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি (ওএমএস) ও ১০ টাকা কেজি চাল বিক্রি শুরু হওয়ায় গত সপ্তাহ থেকে প্রকারভেদে চালের দাম কমেছে।

ফলে স্বস্তি ফিরেছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে। সরকারি নজরদারি অর্থাৎ মজুদবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করলে আগামীতে চালের দাম আরও কমবে বলে জানিয়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

নওগাঁ পৌর ক্ষুদ্র চাল বাজার সূত্রে জানা যায়, প্রতি কেজি স্বর্ণা ৩৮-৪০ টাকা, পাইজাম ৫৮-৬০ টাকা, নাজিরশাইল ৫০-৫২ টাকা, রনজিত ৪২-৪৩ টাকা, ৪৯ চাল ৪৫-৪৬ টাকা, সম্পা কাটারি ৪৬-৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পূর্বে ছিল কেজি প্রতি ২-৩ টাকা বেশি।

গত ৫ মার্চ থেকে সরকারের এ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ওএমএস ও ১০ টাকা কেজি চাল বিক্রি শুরু হয়। বিদেশ থেকে চাল আমদানি করা এবং নওগাঁর মিল ব্যবসায়ীরা (মজুদদাররা) বাজারে চাল সরবরাহ করায় যা গত সপ্তাহ থেকে প্রকারভেদে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চাল ২-৩ টাকা কমেছে।

পাইকারি চালের বাজারে বস্তা প্রতি কমেছে ২০০-২৫০ টাকা। ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিটি সারা বছর চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। দফায় দফায় বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণদের নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছিল। সরকার চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে খোলা বাজারে ওএমএস চাল বিক্রি শুরু করেছে।

ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ী রিংকু বলেন, খোলা বাজারে চাল বিক্রি হওয়ায় কমেছে চালের দাম। ফলে বেচাকেনাও কমেছে। ক্রেতা না আশায় বেচাকেনার অবস্থা খুবই খারাপ। সারাদিনে ১ হাজার টাকারও বেচাকেনা হচ্ছে না।

নওগাঁ পৌর ক্ষুদ্র চাল বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার সরকার বলেন, চালের দাম কমতে শুরু করেছে। প্রকারভেদে কেজি প্রতি ২-৩ টাকা কমেছে। পাইকারিতে চালের বাজারে বস্তা প্রতি কমেছে ২০০-২৫০ টাকা। সরকারি নজরদারি অর্থাৎ মজুদবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করলে আগামীতে চালের দাম আরও কমবে।

নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণ চাল আমদানিকারকরা আমদানি করেছে এবং আমদানি অব্যাহত আছে। ফলে বিভিন্ন স্থানে প্রচুর পরিমাণ চালের মজুদ গড়ে উঠেছে। সঙ্গত কারণে চালের বেচাকেনা কমে গেছে। সরকারের এ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ওএমএস ও ১০ টাকা কেজি চাল বিক্রি চালু হওয়ায় প্রতি কেজি চাল ২-৩ টাকা কমেছে। বর্তমানে যে বাজার চলছে আগামীতে চালের দাম আরও কমার লক্ষণ দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী ইরি-বোরো মৌসুমে কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য নাও পেতে পারে। এতে কৃষকরা লোকসানের সম্মুখীন হলে ধানের আবাদ না করে অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকে পড়বে। তাই প্রকৃত সমীক্ষার মাধ্যমে এলসি বা আমদানির ব্যাপারে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আব্বাস আলী/এএম/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :