নেপাল হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন মাদারীপুরের কবির

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি মাদারীপুর
প্রকাশিত: ০৭:৫৭ পিএম, ১৪ মার্চ ২০১৮

নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলা বিমানের যাত্রী ছিলেন মাদারীপুর জেলার শিবচরের বাসিন্দা কবির মাদবর (৪৫)। বিমান দুর্ঘটনায় আহত হয়ে নেপালের একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন তিনি।

বিমান দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকে কবির মাদবরের পরিবার উৎকণ্ঠায় ছিলেন। মঙ্গলবার তার পরিবার জানতে পারেন নেপালের একটি হাসপাতালের চিকিৎসাধীন কবির।

বিমান দুর্ঘটনায় তার শরীরের বিভিন্ন অংশ অগ্নিদগ্ধ হয়েছে, পা ভেঙে গেছে। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তাকে সুস্থ করে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার।

কবিরের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাশকান্দি ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের মৃত মোকসেদ মাদবরের ছেলে কবির মাদবর দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার উত্তরার কোটবাড়ি মাস্টার পাড়া এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।

তিনি নেপাল ও বাংলাদেশে কসমেটিকস ব্যবসায় জড়িত। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তিনি প্রায়ই নেপালে যাওয়া-আসা করতেন। নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা বিমানে থাকা ৩৬ বাংলাদেশির মধ্যে চারজন ক্রু এবং ২২ যাত্রীর মৃত্যু হলেও আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন কবির। তার শরীরের বিভিন্ন অংশ অগ্নিদগ্ধ হয়ে পুড়ে গেছে, দুই পা আঘাতে ভেঙে গেছে ও মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। আহত কবির মাদবরের ছেলে শাওন মাদবর দুর্ঘটনার পর কাঠমান্ডুতে অবস্থান করছেন।

এদিকে, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা থেকে কবির মাদবর বেঁচে যাওয়ায় সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া জানিয়েছেন তার পরিবার। সেইসঙ্গে তাকে উন্নত চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত সুস্থ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নেপাল হাসপাতালে অবস্থানরত কবির মাদবরের ছেলে শাওন বলেন, বিমান দুর্ঘটনায় বাবার শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেছে, পা ভেঙে গেছে, মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছেন তিনি। তাকে নেপাল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হলেও আমরা তার সঠিক চিকিৎসা নিয়ে সন্দিহান। তার উন্নত চিকিৎসার দাবি জানাই।

ঢাকায় অবস্থানরত কবিরের স্ত্রী হেনা বেগম বলেন, বিমান দুর্ঘটনায় অনেক লোকের মৃত্যু হলেও আমার স্বামী গুরুতর আহতাবস্থায় বেঁচে আছেন। এ জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। তবে আমরা চাই উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তাকে দ্রুত সুস্থ করে তোলা হোক।

কবিরের বড় ভাই আফসার মাদবর বলেন, আমার ভাই নেপাল হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। আমরা তার চিকিৎসা ও সেবা নিয়ে চিন্তিত। আমরা চাই তাকে আরও উন্নত চিকিৎসা দেয়া হোক।

একে এম নাসিরুল হক/এএম/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :