নারায়ণগঞ্জে মাদরাসার ৩০ শিক্ষার্থীকে জুতাপেটার অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৮:৩৭ পিএম, ১৪ মার্চ ২০১৮

নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার মুছাপুর দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদরাসার ১০ম শ্রেণির ৩০ শিক্ষার্থীকে জুতাপেটা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সভাপতি ও আরবি শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করেছে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ শেষে বিকেলে শিক্ষার্থীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মাদরাসার সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। পরে মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন সুষ্ঠু বিচার করে দেয়ার আশ্বাসে দিলে শিক্ষার্থীরা শান্ত হয়।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে ম্যানেজিং কমিটির সভায় মাদরাসার ১০ম শ্রেণির ৩০ শিক্ষার্থীকে জুতাপেটা করেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহাদৎ হোসেন। এ ঘটনার পর থেকে সভাপতি আর মাদরাসায় আসেননি।

শিক্ষার্থীরা জানায়, গত বৃস্পতিবার ১০ম শ্রেণির ছাত্র সাজ্জাদ পাঞ্জাবির সঙ্গে প্যান্ট পড়ে মাদরাসায় আসার অপরাধে আরবি শিক্ষক আব্দুস সালাম তাকে মারধর করেন। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করায় ম্যানেজিং কমিটির সভা চলাকালে শিক্ষক আব্দুস সালাম বিষয়টি উত্থাপন করেন। এ সময় মাদরাসার সভাপতি ১০ম শ্রেণির ৩০ ছাত্রকে উপস্থিত ম্যানেজিং কমিটির সামনে প্রকাশ্যে মাঠে দাঁড় করিয়ে জুতাপেটা করেন। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারই সূত্রধরে বুধবার মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও আরবি শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে।

এ ব্যপারে মাদরাসার সুপার মাওলানা মহিউদ্দিন জানান, ছাত্ররা উশৃঙ্খল আচরণ করায় এবং মাদরাসার নারী শিক্ষককে খারাপ মন্তব্য করায় সভাপতি তাদের জুটাপেটা করেছেন।

এ ব্যাপারে বন্দর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আ.ক.ম নুরুল আমিন বলেন, শিক্ষার্থীরা অন্যায় করলে তাদের অভিভাবকদের ডেকে এনে তাদের কাছে বিচার দিতে পারতো। শিক্ষার্থীদের জুটাপেটা শাসন নয়, এটা অপরাধ। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মন্ডল বলেন, শিক্ষার্থীরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। তবে মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সমাধানের দায়িত্ব নিয়েছেন। সমাধান না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শাহাদাত হোসেন/আরএআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :