১০ কোটি টাকা নিয়ে মালয়েশিয়া পালাল সমিতির মালিক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৬:৪১ পিএম, ১৭ মার্চ ২০১৮

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় ‘টার্নিং পয়েন্ট’ নামে বহুমুখী সমবায় সমিতির সদস্যদের প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সমিতির লোকদের টাকা আত্মসাৎ করে দেশের বাইরে চলে যায় প্রতারক হাসেম। সেইসঙ্গে হাসেম তার পরিবারের লোকদের দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করে।

তবে পাওনা টাকা ফেরত পেতে সমিতির সদস্যরা সমিতির মালিক প্রতারক হাসেমের শ্বশুরবাড়ি ঘেরাও করে বাড়ির লোকদের গণপিটুনি দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে সমিতির ভুক্তভোগী সদস্যরা থানার সামনে অবস্থান করে। শনিবার দুপুরে ফতুল্লার কাশিপুর দেওয়ান বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও সমিতির সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, কাশিপুর দেওয়ান বাড়ি এলাকার হাসেম মিয়া টার্নিং পয়েন্ট নামে বহুমুখী সমবায় সমিতি খুলে কাশিপুর এলাকার প্রায় ৬/৭শ সদস্য তৈরি করে।

সদস্যদের মধ্যে নারী-পুরুষ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে হাসেম সমিতি খুলে এলাকার নিরীহ লোকদের সদস্য বানিয়ে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। নিরীহ লোকদের টাকায় হাসেম এলাকায় একটি ইজিবাইক পার্টসের দোকানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে।

একপর্যায়ে হাসেম মানুষের টাকা হাতিয়ে মালয়েশিয়া চলে যায়। পরে সমিতির সদস্যরা হাসেমের শ্বশুর, স্ত্রীসহ অন্যান্য লোকদের চাপ সৃষ্টি করে। পরে তারা টাকা ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

এক বছর আগে সদস্যদের আসল ও লাভের টাকা ফেরত চাইলে তারা নানাভাবে টালবাহানা করতে থাকে। একপর্যায়ে স্থানীয়ভাবে সদস্যদের টাকা ফেরত দেয়ার সময় দেয়া হলেও টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টা-পাল্টা কথা বলে।

শনিবার দুপুরে সকল সদস্যরা একজোট হয়ে হাসেমেেরর শ্বশুরবাড়ি ঘেরাও করে। বাড়িতে তার শ্বশুর নান্নু দেওয়ান, স্ত্রী চায়না, শ্যালক ওমর দেওয়ান, রহিম দেওয়ান, ছেলে ইমন রেজাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

এ সময় পরিবারের লোকদের ঘর থেকে বের করে গণপিটুনি দেয়ার চেষ্টা করে। সংবাদ পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানার এসআই আকিকুজামান ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী নারী-পুরুষদের শান্ত করে।

সমিতির সদস্য রুজিনা বেগম জানান, হাসেম অধিক লাভের প্রলোভন দেখিয়ে সমিতির সদস্য করে। টাকা জমা দিতে দিতে প্রায় ৭২ হাজার টাকা জমা দিই। স্বামীকে না জানিয়ে সমিতি করে এখন বিপাকে পড়েছি। সমিতির সদস্যদের টাকা না দিয়ে প্রতারক হাসেম দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। আমরা আমাদের টাকা ফেরত চাই।

সমিতির সদস্য মনির হোসেন জানান, আমি চাকরি করি। হাসেমের খপ্পড়ে পড়ে বেতনের সব টাকা তার সমিতিতে জমা রাখি। সমিতিতে ৭/৮ লাখ টাকা জমা হলে টাকা ফেরত চাইলে হাসেম নানা ধরনের টালবাহানা করতে থাকে। এখন আমি কি করবো বুঝতে পারছি না। আমার মত প্রায় ৬/৭শ সদস্য রয়েছে। সবমিলে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে দেশের বাইরে চলে যায় হাসেম।

ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এএসপি (পদোন্নতিপ্রাপ্ত) কামাল উদ্দিন জানান, সমিতির সদস্যরা হাসেমের শ্বশুরবাড়ি ঘেরাও করে শ্বশুর, স্ত্রীসহ অন্যদের পিটুনি দিতে চাইলে পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করে লোকদের থানায় নিয়ে যায়। সদস্যদের সম্মতিক্রমে টাকা ফেরত দেয়ার চুক্তিনামা হয়েছে।

শাহাদাত হোসেন/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।