ফারুক হত্যা : রানার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সাক্ষ্যগ্রহণ বুধবার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৬:৫২ পিএম, ২০ মার্চ ২০১৮

টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় দ্বিতীয়বারের মতো সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে আগামীকাল বুধবার এমপি রানার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়ার আদালতে বিচারাধীন এ মামলার দ্বিতীয় দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে বেলা ১টা পর্যন্ত চলে।

সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এমপি রানাকে আদালতে উপস্থিত করা হয়। পরে সাক্ষ্যগ্রহণ ও বাদীর জেরা শুরু হয়। এই সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে আগামীকাল বুধবার (২১ মার্চ)।

এর আগে অসুস্থতার কারণে আমানুর রহমান খান রানা এমপিকে আদালতে হাজির না করায় চারবার এইমামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানো হয়।

এর আগে সোমবার বিকেলে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ থেকে কারা অ্যাম্বুলেন্সে করে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার প্রধান আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সরকার দলীয় এমপি আমানুর রহমান খান রানাকে টাঙ্গাইল কারাগারে আনা হয়।

টাঙ্গাইল আদালতের পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, মামলার প্রধান আসামি এমপি আমানুর রহমান খান রানার উপস্থিতিতে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইল প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া এজলাসে বসেন। এরপর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও বাদীর জেরা শুরু হয়। আদালতে মামলার বাদী ও নিহতের স্ত্রী নাহার আহমদের জেরা অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া বাকি আরও দুই সাক্ষী নিহতের ছেলে আহমেদ মজিদ সুমন ও মেয়ে ফারজানা আহমেদ মিথুনের হাজিরা আদালতে দাখিল করা হয়। পরে আদালত বাদীর আংশিক জেরা গ্রহণের পর আগামীকাল ২১ মার্চ এ মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

এ মামলার প্রধান আসামি এমপি রানাসহ টাঙ্গাইল কারাগারে থাকা আরও তিন আসামি মোহাম্মদ আলী, আনিছুর রহমান রাজা ও সমিরকে আদালতে হাজির করা হয়। এছাড়া জামিনে থাকা আসামি নাসির উদ্দিন নুরু, মাসুদুর রহমান মাসুদ ও ফরিদ আহম্মেদ আদালতে হাজিরা দেন। গত ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে চাঞ্চল্যকর এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর এমপি রানা গত ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর একই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার-১ আছেন। বেশ কয়েক দফা উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালতে আবেদন করেও জামিন পাননি তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলাটি টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে এবং গত বছর ৩ ফেব্রুয়ারি এমপি রানা ও তার তিনভাইসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

আরিফ উর রহমান টগর/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।