লাঙ্গলবন্দে স্নানোৎসবে পুণ্যার্থীদের ঢল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৮:৫৯ পিএম, ২৪ মার্চ ২০১৮

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলোর লাঙ্গলবন্দে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী স্নানোৎসব শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে দু’দিন ব্যাপী এ স্নানোৎসব শুরু হয়। এতে প্রথম দিনেই পুণ্যার্থীদের ঢল নামে। এ বছর দেশ-বিদেশের কয়েক লাখ পুণ্যার্থী স্নানে অংশ নেবেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

স্নানোৎসব শুরু হওয়ার পরপরই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান স্নানোৎসব এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তাসহ নানা বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। আগত পুণ্যার্থীরা উৎসবের ব্যবস্থাপনা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

‘হে লৌহিত্য আমার পাপ হরণ করো’- এই মন্ত্র উচ্চারণ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করছেন। এর মাধ্যমে জাগতিক সংকীর্ণতা ও পঙ্কিলতার আবরণে ঘেরা জীবন থেকে পাপমুক্ত হবেন তারা এমনটাই বিশ্বাস। এবার ১৮টি ঘাটে স্নান করছেন পুণার্থীরা। ঘাটগুলো হলো- আড্ডা হরিরামপুর ঘাট, নলিত মোহন সাধু ঘাট, নাসিম ওসমান ঘাট, অন্নপূর্ণা ঘাট, রাজঘাট, মাকরী সাধু ঘাট, গান্ধি (শশ্মান) ঘাট, ভদ্রেশ্বরী কালি ঘাট, জয়কালী মন্দির ঘাট, পাষাণকালী মন্দির ঘাট, মনোজকান্তি বড়াল ঘাট, প্রেমতলা ঘাট, মনি ঋষিপাড়া ঘাট, ব্রহ্ম মন্দির ঘাট, দক্ষিণেশ্বরী ঘাট, কালীগঞ্জ পঞ্চপাণ্ডব ঘাট ও সাবদী কালীবাড়ি ঘাট।

এদিকে লাঙ্গলবন্দ স্নানোৎসবকে ঘিরে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এ উৎসবে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংস্থা এ উৎসবে নানাভাবে সহায়তা করছে। বসানো হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার ও ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা।

n.gonj2

প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্নান করতে আসা পুণ্যার্থীদের জন্য অস্থায়ী সেবাকেন্দ্রও খোলা হয়েছে। স্নানে আসা সবাইকে বিশেষভাবে তল্লাশি করা হচ্ছে। কাউকে মোবাইল ফোনে ছবি তুলতে দেয়া হচ্ছে না। নদীতে প্রতিটি ঘাটকে কেন্দ্র করে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বিশেষ টহলসহ মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যারা সাঁতার জানেন না তাদেরকে পানিতে নামতে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হচ্ছে। কিছু দূর পরপর মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে কেউ হারিয়ে গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া যায়।

স্নান উপলক্ষে ৩৩টি ধর্মীয় স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সেবামূলক সংগঠন পুণ্যার্থীদের সেবা দিতে ক্যাম্প স্থাপন করেছে। এসব ক্যাম্প থেকে পুণ্যার্থীদের রান্না করা খাবার ও চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। স্নান ঘাটগুলোতে কাপড় পাল্টানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ, পুণ্যার্থীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ১০ শয্যা বিশিষ্ট অস্থায়ী হাসপাতালসহ ৫টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা আছে। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে স্নান ঘাট থেকে ৫ কিলোমিটার আগে থেকেই সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মঈনুল হক জানান, পুণ্যার্থীরা নিরাপত্তায় ১২ শতাধিক পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ার। এছাড়াও ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে।

শাহাদাত হোসেন/আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।