সাঈদীকে আলেম বলায় মাহফিলে বাধা, জনরোষে আ.লীগ নেতা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি গোপালগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৯:৩৬ পিএম, ২৭ মার্চ ২০১৮ | আপডেট: ০৯:৪৩ পিএম, ২৭ মার্চ ২০১৮

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে এক ওয়াজ মাহফিলে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে নিয়ে মন্তব্য করে বিপাকে পড়েছেন এক বক্তা।

এ সময় ওয়াজ করতে বাধা দেয়ায় স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে লাঞ্ছিত করেছে উত্তেজিত শ্রোতারা। সেইসঙ্গে মঞ্চ লক্ষ্য করে জুতা-সেন্ডেল নিক্ষেপ করেছে তারা।

সোমবার রাত ১১টায় উপজেলার ছোটখারকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার উপজেলার ছোটখারকান্দি গ্রামবাসীর উদ্যোগে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। রাত ১১টার দিকে মাহফিলের প্রধান বক্তা মুঈনুল ইসলাম ওয়াজ করেন।

এ সময় তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে প্রখ্যাত আলেম ও নিরপরাধ হয়েও জেল খাটছেন উল্লেখ করে সাঈদী সম্পর্কে বক্তব্য দেন। পাশাপাশি তিনি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সম্পর্কে আরও কিছু কথা বলার জন্য উপস্থিত লোকদের কাছে অনুমতি চান।

এ সময় মাহফিলের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাহাঙ্গীর আলম ওই বক্তাকে ওয়াজ করতে নিষেধ করেন এবং তাকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেন।

এতে মাহফিল শুনতে আসা লোকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে আওয়ামী লীগের ওই নেতার ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের ওই নেতাকে লক্ষ্য করে জুতা-সেন্ডেল নিক্ষেপ করে উত্তেজিতরা। পরে তিনি স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

আওয়ামী লীগ নেতা কাজী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মাহফিলে আগত বক্তা মুঈনুল ইসলাম সাঈদীর গুণগান গেয়ে ওয়াজ করছেন। এ সময় আমি তাকে ওয়াজ করতে নিষেধ করি। কিন্তু তিনি না শুনলে আমি তাকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দিতে বাধ্য হই। এ সময় ওই বক্তার সমর্থিত জামায়াতপন্থী কিছু লোক আমার ওপর চড়াও হয়। আমি স্থানীয় লোকের সহযোগিতায় মাহফিল থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হই।

মাহফিল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা তাওহীদুল ইসলাম কামাল জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও গ্রামবাসীর উদ্যোগে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। মাহফিলে প্রায় ১০ হাজার লোকের আগমন ঘটে। কিন্তু হঠাৎ মুঈনুল ইসলামের আপত্তিকর বক্তব্য শুনে মাহফিলের সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা কাজী জাহাঙ্গীর আলম উত্তেজিত হয়ে ওয়াজ করতে নিষেধ করেন। কিছু বুঝে উঠার আগেই লোকজন উত্তেজিত হয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা ও জুতা-সেন্ডেল নিক্ষেপ করে। আমরা এলাকাবাসী উত্তেজিত লোকজনকে সামাল দিতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কাশিয়ানী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। ঘটনাস্থল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

এএম/এমএস