শেখ ফরিদকে জিনে মেরে ফেলেছে বলে পালাল ‘জিন হুজুর’
কুমিল্লায় মাহবুবুর রহমান নামের এক ভণ্ড কবিরাজের বিলাস বহুল আস্তানায় চলতো যতো অপকর্ম ও নির্যাতন। সর্বশেষ ওই আস্তানায় শেখ ফরিদ নামে ৩ বছরের শিশুকে দুষ্টুমি কমানোর নামে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ ভণ্ড কবিরাজের খাদেমসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে জিন হুজুরখ্যাত ওই ভণ্ড কবিরাজ। রোববার দুপুরে শিশুর ময়নাতদন্ত করা হয়।
এ ঘটনায় শিশুর মা বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় জিন হুজুরসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই শিশু জেলার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের সিন্দুরিয়া পাড়া গ্রামের প্রবাসী জামাল হোসেনের একমাত্র সন্তান।
ভণ্ড কবিরাজ মাহবুবুর রহমান জেলার আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বারপাড়া গ্রামের বাড়িতে গড়ে তোলেন জিন-ভূত তাড়ানোর অপচিকিৎসার আস্তানা। তিনি সব মহলে জিন হুজুর নামে পরিচিত।
ঘটনার পর ওই এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে। সন্ধ্যায় কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আবু ছালাম মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই ভণ্ড কবিরাজের আস্তানায় তল্লাশি চালায়। তবে অধিকাংশ কক্ষের দরজা তালাবদ্ধ থাকায় পুলিশ ফিরে আসে।
জানা গেছে, ছোট্ট শিশু শেখ ফরিদ বেশি দুষ্টুমি করতো। এতে শিশুর মা রোজিনা বেগম শিশুর দুষ্টুমি কমানোর জন্য গত শুক্রবার সকালে বারপাড়া গ্রামের কবিরাজ মাহবুবুর রহমানের নিজ বাড়ির আস্তানায় নিয়ে যান।
এরপর কবিরাজ শিশুর মায়ের কথা শুনেন এবং ওই শিশুর দুষ্টুমি কমাতে হলে শিশুকে ৩ দিন তার কাছে রাখতে হবে বলে শর্ত দেন। এতে শিশুর মা সম্মত হয়ে ওই শিশুকে কবিরাজের কাছে রেখে বাড়ি চলে যান।
শিশুর মা রোজিনা আক্তার জানান, ওইদিন রাতে মোবাইল ফোনে কবিরাজের কাছে ছেলের অবস্থা জানতে চাইলে কবিরাজ বলেছে- আপনার ছেলে ভালো আছে। চিকিৎসা চলছে, রোববার এসে নিয়ে যাবেন। তার দুষ্টুমি কমে গেছে, সে একেবারে ভদ্র ও শান্ত হয়ে গেছে।
রোজিনা আক্তার আরও জানান, পরদিন শনিবার সাদা কাপড়ে (কাফন) মোড়ানো অবস্থায় আমার সন্তানের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়িতে পাঠায় কবিরাজ মাহবুব এবং সে মোবাইল ফোনে আমাকে জানায়, শেখ ফরিদকে সকালে জিনে মেরে ফেলেছে, গোসল ও জানাজা হয়ে গেছে, দাফন করে দিন।
এদিকে শিশু ফরিদের মামাতো ভাই জাহিদ হোসেন ও নিকটাত্মীয় মোবারক মিয়া এই ঘটনা পুলিশকে জানায়। পরে শিশুর মরদেহ উদ্ধারসহ ভণ্ড কবিরাজের সহযোগী শাহাদাত হোসেন ও অ্যাম্বুলেন্সের চালক জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আবু ছালাম মিয়া জানান, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে শিশুর ময়নাতদন্ত শেষে রোববার দুপুরে মরদেহ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুর মা রোজিনা আক্তার বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। পলাতক ভণ্ড কবিরাজ মাহবুবুর রহমানকে গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চলছে।
মো. কামাল উদ্দিন/এএম/আরআইপি