কথিত ডিসি ও অ্যাসিল্যান্ডের ফোনে ফেঁসে গেলো তহশিলদার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
প্রকাশিত: ০৭:৩১ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০১৮

এবার কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সরকারি মোবাইল ফোন নম্বর ক্লোন করে জেলার এক সহকারী ভূমি কর্মকতার (তহশিলদার) কাছ থেকে বিকাশে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। সোমবার এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে জানা গেছে।

এর আগেও কুমিল্লায় একটি প্রতারক চক্র জেল সুপার, পুলিশ কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীদের মোবাইল নম্বর ক্লোন করে নানা প্রতারণাসহ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছিল।

জানা যায়, কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেষণে থাকা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকতা (তহশিলদার) মো. আবুল কালামকে গতকাল রোববার বিকেলে মুরাদনগরের অ্যাসিল্যান্ড পরিচয় দিয়ে সরকারি নম্বর থেকে ফোন দিয়ে জানান, কালাম সাহেব আপনার সঙ্গে ডিসি মহোদয় কথা বলবেন।

এর কিছুক্ষণ পরে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সরকারি নম্বর থেকে ভূমি কর্মকর্তা আবুল কালামের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে কল আসে। সালাম বিনিময়ের পরে প্রতারক চক্র বলেন, আপনার ফাইলপত্রের বিষয়ে অ্যাসিল্যান্ড যেভাবে নির্দেশনা দেন ওইভাবে কাজ করেন এ কথা বলে সংযোগ কেটে দেন কথিত জেলা প্রশাসক।

পরে মুরাদনগরের অ্যাসিল্যান্ড পরিচয়দানকারী সরকারি ফোন নম্বর থেকে আবুল কালামকে জানানো হয়, আপনার কাজের জন্য ৫০ হাজার টাকা দরকার, দ্রুত বিকাশ করে টাকা পাঠান। এ কথা শুনে মো. আবুল কালাম নম্বর যাচাই করে সরকারি নম্বর মিল পেয়ে প্রতারক চক্রের সরবরাহ করা পাঁচটি পৃথক নম্বর যথাক্রমে পার্সোনাল নম্বর, ০১৯৯০-০১০৯৯৯, ০১৭২২-৫০৭৩৭৫, ০১৭৯১-১১৮২২৬, ১৭৭৪-২২৩৬৯১ ও একটি এজেন্ট ০১৮১২-১৪৩০৮৭ নম্বরের প্রতিটিতে ১০ হাজার ২শ টাকা করে মোট ৫১ হাজার টাকা বিকাশ করেন।

এদিকে সোমবার সকালে ওই প্রতারক চক্র ০১৭৪৯-৯৯৬১৬৯ এবং ০১৭১৭-০১৯৮১৪ নম্বর থেকে আবারও মো. আবুল কালামকে টাকার জন্য কল করতে থাকে। পরে বিষয়টি তার সন্দেহ হলে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে ঘটনাটি জানানোর পরই নিশ্চিত হন জেলা প্রশাসকের সরকারি মোবাইল নম্বর ক্লোন করে প্রতারণা করা হয়েছে।

বিকেলে এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর ফোনে জানান, আবুল কালামসহ আরও বেশ কয়েকজন অফিস স্টাফকে প্রতারক চক্র আমার সরকারি নম্বর ক্লোন করে মোবাইলে টাকা চায় বলে অভিযোগ পেয়েছি।

এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এছাড়াও বিষয়টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তানভীর সালেহীন ইমনকে জানানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তানভীর সালেহীন ইমন জানান, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। প্রতারক চক্রকে শনাক্ত ও আটক করতে আমাদের কার্যক্রম চলছে।

কামাল উদ্দিন/এমএএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।