পাহাড়ে উচ্ছেদ আতঙ্কে হাজারো পরিবার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৯:১৪ এএম, ১১ এপ্রিল ২০১৮

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ে সহায় সম্পত্তি হারিয়ে বাঁচার তাগিদে কক্সবাজার শহরের বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ে আশ্রয় নেয় দেড় শতাধিক পরিবার। প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ ও জঙ্গল পরিষ্কার করে পাহাড়ের গায়ে ঘর করে এলাকাটিকে বসবাসযোগ্য করে তোলেন মহেশখালি, কুতুবদিয়া ও টেকনাফের উপকূলীয় অঞ্চলের সর্বস্ব হারানো এসব বাসিন্দা।

কালের পরিক্রমায় এলাকাটি দক্ষিণ সাহিত্যিকা পল্লী নামে পরিচিতি পায়। সেই এলাকায় এখন হাজারো পরিবারের বাস। কিন্তু ২৮ বছর ধরে এলাকাটিতে বসবাস করা লোকজন বিজিবির বন্দোবস্ত আবেদনের কারণে বর্তমানে উচ্ছেদ আতঙ্কে ভুগছেন।

তবে বিজিবি বলছে, তাদের পক্ষ থেকে কাউকে জমি ছেড়ে দেয়ার কোনো কথা বলা হয়নি।

দক্ষিণ সাহিত্যিকা পল্লী সমাজ কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল আরমান বলেন, ২৮ বছর ধরে এ এলাকায় রয়েছি। তখন থেকেই জানি এটি বনবিভাগ ও জেলা প্রশাসনের খাস জমি। কিন্তু ৯১'র ঘূর্ণিঝড়ে টেকনাফ সাবরাংয়ের বাপ দাদার বসত ভিটা সাগরে বিলীন হয়ে যায়। আশ্রয়ের জন্য কোনো স্থান না পেয়ে এখানে এসে বাবা মাকে নিয়ে বসতি গড়ি। এতোদিন কোনো সমস্যা না হলেও হঠাৎ করে বিজিবি মাপঝোঁক শুরু করায় আমরা ভয়ে আছি। আমার মতো হাজারও পরিবার এখন উচ্ছেদ আতঙ্কে ভুগছেন।

সমাজ কমিটির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আমিমুল এহসান মানিক বলেন, ৫ এপ্রিল বিজিবি সরকারি সার্ভেয়ার নিয়ে গিয়ে এলাকাটি পরিমাপ করেছে। সেদিন ওই এলাকার জমি তাদের দাবি করে এলাকাবাসীকে সরে যেতে বলেছে। সেই কারণে আমরা এলাকাবাসী শেষ আশ্রয়স্থল বাঁচাতে প্রশাসনের বিভিন্ন জনের কাছে ধর্ণা দিচ্ছি।

সমাজ কমিটির সভাপতি এস.এম মোরশেদ আলম বলেন, উচ্ছেদ থেকে বাঁচতে আমরা জেলা প্রশাসক, সংসদ সদস্য, মেয়র, বিজিবি’র সেক্টর কমান্ডারসহ ৬টি সরকারি দফতরে আবেদন করেছি। আশা করছি সরকার বিষয়টি মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেবে।

এ বিষয়ে ৩৪ বিজিবির অতিরিক্ত পরিচালক মেজর ইকবাল আহমেদ বলেন, বিনা কারণেই আতঙ্কগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামবাসী। এখানে আতঙ্কের কিছু নেই। তাদেরকে উচ্ছেদ করার কোনো পরিকল্পনা আপাতত বিজিবির নেই।

তিনি আরো বলেন, ২০১২ সালে বিজিবির পক্ষ থেকে ৬ একর জমির বন্দোবস্ত চেয়ে আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজিবি হেডকোয়ার্টার জানতে চায় ওই জমিতে কতো মানুষ বাস করে। এরই প্রেক্ষিতে ৫ এপ্রিল একদফা জমিটি পরিমাপ করা হয়। কিন্তু পরিমাপ সেদিন শেষ হয়নি।

তিনি আরো বলেন, বিজিবি এখনও জমিটির বন্দোবস্ত পায়নি। প্রক্রিয়াটি এখনও প্রাথমিক ধাপে রয়েছে। বিজিবি বন্দোবস্ত পাওয়ার পরই দখলে যাবে। যখন দখলে যাবে তখন ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিয়েই যাবে। তাই এনিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

কক্সবাজার সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিম উদ্দিন বলেন, বিজিবির মৌখিক আবেদনের প্রেক্ষিতে ৫ এপ্রিল সার্ভেয়ার পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু দক্ষিণ সাহিত্যিকা পল্লীর অনেক বাসিন্দাই আমার কাছে এসেছিল। অনেকে লিখিত আবেদন করেছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ৯ এপ্রিল দক্ষিণ সাহিত্যিকা পল্লীর ৪০৩ জন বাসিন্দা স্বাক্ষরিত একটি আবেদন পেয়েছি। তারা বিজিবির উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করতে আবেদন করেছেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টির আইনি সুরাহার জন্য এডিসি রেভিনিউকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

ডিসি আরো বলেন, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ক্ষতি হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত সরকার কিংবা স্থানীয় প্রশাসন নেবে না।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :