উৎসবের আড়ালে রত্নার সংগ্রামের গল্প

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাঙ্গামাটি
প্রকাশিত: ০৯:৪৪ পিএম, ১১ এপ্রিল ২০১৮

পাহাড়ে বইছে বৈসাবি হাওয়া। চারপাশে এখন শুধুই কেনা-বেচার শেষ আয়োজনে ব্যস্ত পাহাড়ের সকল জাতি গোষ্ঠী। পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণের এ সময়টিতে পাহাড় সাজে ভিন্ন রুপে। পাহাড়ে বসবাস করা বিভিন্ন জাতির নানান জাতিগত সংস্কৃতি একসঙ্গে মিলে মিশে তৈরি হয় ভিন্ন রকমের পরিবেশ। সকল জাতি গোষ্ঠীর মানুষেরা যখন বৈসাবি উৎযাপনের জন্য নানান জিনিস পত্র কিনতে ব্যস্ত তখন রত্না চাকমা এসেছে দূর আদাম (গ্রাম) থেকে পাহাড়ি আলু, কচু, কাঁচ কলাসহ নানান সবজি বাজারে বিক্রি করতে। বুধবার সকালে রাঙামাটি শহরের বনরুপা বাজার ঘুরতে ঘুরতে দেখা হয় রত্না চাকমার সঙ্গে।

Ratna-(2)

বেচা-কেনার ব্যস্ততার মাঝে কথা হয় পাহাড়ে সংগ্রাম করে যাওয়া এই নারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, বিজু সকলের উৎসব হলেও আমাদের মতো দরিদ্র মানুষের জন্য উৎসব আসেনি। আমার বাড়ি ঘিলাছড়ি আদামে (গ্রামে)। সেই ভোর পাঁচটাই বাগানে গিয়ে কিছু পাহাড়ি আলু, কচু, পেঁপে নিয়ে বিজুর শেষ বাজার ধরার জন্যে রাঙামাটি শহরের বনরুপা বাজারে এসেছি। আজ বিজুর শেষ বাজার, এখন যা বেচা-কেনা হবে। কাল থেকে তো বিজুর মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু, ক্রেতারা যা ক্রয় করার তা আজই করে ফেলবে।

বিজু কেমন কাটবে রত্নার? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার দুই ছেলে, দুই জনই পড়ালেখা করে সাপছড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আর ঘরের বেটা (স্বামী) কাজ করে জুমে। ছেলে দুইটারে বিজু উপলক্ষে কাপড় এখনও কিনে দিতে পারিনি, তবে বিকেলে ফেরার পথে বাজার বিক্রি করে যে টাকা পামু তা দিয়ে ছেলে দুইটার জন্যে কাপড় নিয়ে যাবো। তারা নানান বাড়িতে ঘুরে-বেড়াবে এটাই আমাদের আনন্দের। এটাই আমাদের বিজু উৎসব।

Ratna-(3)

বিজুর কি আয়োজন হবে বাসায়? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কি হবে আর প্রতিদিন যা হয়, তবে বাসায় একটা মুরগি আছে সেটা দিয়ে মুরগির গুদাইন্না (পাহাড়ে মুরগি মাংসা রান্নার নাম) করে বাচ্চাদের ও ঘরের মানুষটারে (স্বামী) খাওয়াবো।

বাজারে আসা অন্য এক বিক্রেতা কৃপাধন চাকমা বলেন, আমি বাজারে কিছু কাঁঠাল, পেঁপে, আলু, পুদিনাপাতা নিয়ে এসেছি। এগুলো আমার বাগানের সবজি। এসব বিক্রি করে আমি বিজুর জন্য কিছু ফল কিনে নিয়ে যাবো। বিজুতে কাপড় কেনা হয়নি। তবে বাচ্চাদেরকে কিনে দেয়া হয়েছে বিজুর কাপড়। নতুন বছরে নতুন কাপড় পরে ঘুরার ইচ্ছে সকল বাচ্চাদেরই আছে। তাই তাদেরকে কিনে দিয়েছি, আমি অন্য সময় কিনতে পারবো।

Ratna-(4)

শুধুই রত্ন চাকমা কিংবা কৃপাধন চাকমা নয়, বাজরে আসা শিল্পি চাকমা, কৃতমনি চাকমা, প্রভারণ চাকমাসহ আরও অনেকের সঙ্গে কথা হয়। তারাও জানান, তাদের বিজু উৎযাপনের অনুভূতি। পাহাড়ে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা যখন শেষ মুহূর্তে বৈসাবির কেনাকাটায় ব্যস্ত তখন রত্না চাকমার মতো অনেকেই বাজারে আসে পাহাড়ের সবজি বিক্রি করে একমাত্র সন্তানদের জন্য বিজুর উপাহার কিনে নিতে। কিন্তু নিজের জন্যে বিজুর নতুন কাপড়ের কথাটাই ভুলে যায় তারা।

এমএএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :