আড়তে বাড়তি খাজনা, মাছ ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০২:০৩ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০১৮

চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মহিষলুটি মাছের আড়তে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের প্রতিবাদে মহাসড়কে বিক্ষোভ করেছেন মাছ ব্যবসায়ীরা।

রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৫ শতাধিক পাইকারি মাছ ক্রেতা মাছের ঝুড়ি মাথায় নিয়ে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ী তাড়াশ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে হঠাৎ করে পাইকাররা মাছ কেনা বন্ধ করে বিক্ষোভ করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চলনবিলের মৎস্যজীবীরা। অনেক অপেক্ষার পর মাছ নিয়ে বিক্রেতাদের অন্তত ১৬ কিলোমিটার দূরে হাটিকুমরুল গোলচত্বর মাছ আড়তে যান।

স্থানীয় নওগাঁ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহিষলুটি মাছ আড়তের সভাপতি মিজানুর রহমান সরকার জানান, যেখানে এরকম মাছ ক্রয় করলে সর্বোচ্চ ৬ থেকে ১৫ টাকা খাজনা নেয়া হতো সেখানে নতুন ইজারাদার এসেই গতকাল শনিবার থেকে ৩০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত খাজনা আদায় করছে। এ কারণে রোববার সকাল থেকে মাছ ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ করছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলাও দায়ের করেন ব্যবসায়ীরা।

মাছ ব্যবসায়ী শাহ আলম নাছির উদ্দিন, আলাউদ্দিন, আফজাল হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, রাশিদুল হক, সাদ্দাম বলেন, উত্তরাঞ্চলে মাছ কেনাবেচার অন্যতম মহিষলুটি আড়তে প্রতিদিন কমপক্ষে আড়াই হাজার ব্যবসায়ী কেনাবেচা করে থাকেন। যেখানে লেনদেন হয় দেড় থেকে ২ কোটি টাকা। নতুন ইজারাদার এসেই এখানে খাজনা আদায়ের নামে রীতিমতো চাঁদাবাজি শুরু করেছে।

তবে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করে আড়তের ইজারাদার গফুর মন্ডল জানান, পাইকারি মাছ ব্যবসায়ীরা ১টি গাড়িতে ১৫ থেকে ২০ ডালি অথবা ১০ থেকে ১৫ ড্রাম মাছ কিনে পরিবহন করে থাকেন। সব মিলিয়ে গাড়ি প্রতি ৫ থেকে ৬শ টাকা খাজনা আদায় করা হয়।

তাড়াশ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) ফজলে আশিক জানান, অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগে মাছ ব্যবসায়ীরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আহসান হাবিব জিতু জানান, অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। প্রমাণ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এফএ/এমএস