ডুবোচর ভোগাচ্ছে ২১ জেলার মানুষকে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ১০:০৬ এএম, ১৬ এপ্রিল ২০১৮

মেঘনা নদী ও সংযোগ খালের ৫টি স্থানে জেগে ওঠা ডুবোচরের কারণে লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। গত ৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা এ পথে বিপুল যাত্রীসহ পণ্যবাহী যানবাহন আটকে থাকছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ব্যস্ততম এ রুট ব্যবহারকারী যাত্রীদের। এ সংকট নিরসনে শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত এর বাস্তবায়ন চায় ভুক্তভোগীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৬ সালে তিনটি ফেরি নিয়ে শুরু হয় মজু চৌধুরীহাট লঞ্চঘাট। জেলা শহর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরের এ ঘাট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২৬ কিলোমিটারের এ পথে বাস ও ট্রাকসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। বছরের নভেম্বর থেকে মে এ সাত মাস শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় নদী ও সংযোগ খালে পানি কম থাকে। ফলে ডুবোচরে ফেরি ও লঞ্চ আটকে থাকে।

মেঘনার মতির হাট, বিবির বয়া, বুড়ির খাল, রহমতখালী মোহনা ও লক্ষ্মীপুরের লঞ্চঘাট এলাকায় ডুবোচর জেগেছে। ওইসব স্থানে জোয়ারের সময় কিছু পানি থাকলেও ভাটার সময় থাকে কোমর পরিমাণ পানি। এতে প্রতিদিন ৪-৫ ঘণ্টা করে ডুবোচরে আটকে থাকছে ফেরি ও লঞ্চ।

গত ৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে এ সমস্যা চরম আকার ধারণ করেছে। এতে সময়মতো ফেরি ও লঞ্চ গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় ঘাটের দু’পাড়ে দিনের পর দিন আটকা পড়া যানবাহনে মজুদ কাঁচামাল ও খাদ্য সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। এতে বাধ্য হয়েই অনেক ব্যবসায়ী ও যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার দিয়ে পারাপার ও পণ্য খালাস করছেন।

জানা গেছে, বিভিন্ন সময় ওই ডুবোচরগুলোর নামমাত্র একাংশ খনন করে বালু নদীর মধ্যেই ফেলা হয়েছিল। এক পাশ থেকে অপসারণ করে অন্য পাশে নদীর মধ্যেই বালু ফেলায় কিছুদিন পর ফের আগের অবস্থা সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসিনতার কারণে পরিকল্পিতভাবে এ কাজ করা হয়নি। এতে সরকারের অর্থ অপচয় হলেও কোনো সুফল আসছে না।

jagonews24

এ রুটে চলাচলকারী ভোলার লালমোহনের গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন ও চরফ্যাশনের স্কুল শিক্ষক নাজমা আক্তার জানান, লঞ্চ ও ফেরিতে সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় লাগার কথা। কিন্তু ডুবোচরের কারণে দ্বিগুণ সময়েরও বেশি অপেক্ষা করতে হয়।

লক্ষ্মীপুর-ভোলা রুটে চলাচলকারী ফেরি কিষাণের মাস্টার মোশাহেদুল ইসলাম বলেন, ভাটার সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়। এতে মানুষের কষ্টের শেষ থাকে না। অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশু সন্তানদের নিয়ে ট্রলারে গন্তব্যে ফেরেন। আমরা শিগগিরই এ সসম্যার সমাধান চাই।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর বিআইডব্লিউটিসির সহ-ব্যবস্থাপক সিহাব উদ্দিন বলেন, এ রুট দিয়ে ২১ জেলার মানুষ যাতায়াত করে। বর্তমানে ৪টি চলাচল করলেও ডুবোচর না থাকলে ফেরির সংখ্যা আরও বাড়ানো যেত। এতে সরকারি রাজস্ব আয়ও বাড়ত। এ সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।

কাজল কায়েস/এফএ/আরআইপি