কক্সবাজার সৈকত থেকে ৫ শতাধিক দোকান সরিয়ে নিলো ব্যবসায়ীরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১১:৩৮ এএম, ১৬ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারের বেলাভূমির ভাসমান ক্ষুদ্র দোকান-ঘরগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সদস্য সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এ অভিযান চালিয়ে দোকানগুলো সরিয়ে দেয়।

প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা জানান, সুগন্ধা পয়েন্টসহ আশেপাশের এলাকা থেকে ৫ শতাধিক স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিজ উদ্যোগেই মালামালসহ স্থাপনা সরিয়ে নেন অনেক ব্যবসায়ীরা।

এর আগে ৯ মার্চ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কঠোর নির্দেশনার পর ১২ মার্চ থেকে মাঠে নামে প্রশাসন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মনজু বিন আফনান বলেন, ব্যবসায়ীরা নিজ দায়িত্বেই তাদের দোকানপাট সরিয়ে নিয়েছে। ১৪ মার্চ তাদেরকে জানানো হয়েছিল, রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ১০টার মধ্যে সব দোকানপাট সরাতে হবে। তবে দোকান ও মালামাল বেশি হওয়ায় সকালে তারা আরও কিছু সময় চেয়ে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে অতিরিক্ত কিছু সময় দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তারা তাদের দোকানপাট সরিয়ে নেয়।

তিনি বলেন, এভাবেই সমুদ্র সৈকত পয়েন্টে উচ্ছেদ চলমান থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে সৈকতের অন্যান্য এলাকাতেও অভিযান চালানো হবে।

কক্সবাজার সৈকত থেকে ৫ শতাধিক দোকান সরিয়ে নিলো ব্যবসায়ীরা

জেলা প্রশাসক এমএ মান্নানের সভাপতিত্বে জেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এক সপ্তাহের মধ্যে সৈকতের সব ভাসমান স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সেই নির্দেশনার আলোকেই জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেল সুগন্ধা, কলাতলী ও লাবণী পয়েন্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জোরালো অভিযানে নেমেছে।

অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীরা জানান, সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষায় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় তারা সরে গেছেন। মন্ত্রী নিশ্চয়ই তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করবেন।

সুগন্ধা পয়েন্টের ব্যবসায়ী মুহাম্মদ আলম বলেন, দীর্ঘ দেড় দশক সুগন্ধা পয়েন্টে বার্মিজ পণ্য বিক্রি করে ১০ সদস্যের পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। এখন আহারের সন্ধান বন্ধ।

শামুক-ঝিনুক বিক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা নিজেরাই দোকান সরিয়ে নিয়েছি। কিন্তু কষ্ট ও বেদনা বুকে চেপে রয়েছে। ঈদের পর বেচাকেনার আশায় ঋণে দোকানে পুঁজি দিয়েছিলাম। হঠাৎ উচ্ছেদের কারণে প্রায় পাঁচ-ছয় লাখ টাকার মতো ক্ষতির মুখে পড়েছি।

আরেক দোকানি নুরুল বশর বলেন, কয়েকদিন পর ঈদ। এরপরই বিক্রির আশায় দোকানে মালামাল তুলে এখন সেই পণ্য নিয়েই বিপাকে পড়েছি। সামনে দিনগুলো কীভাবে চলবো তা আর মাথায় আসছে না।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম বলেন, পর্যটকদের নির্বিঘ্নে চলাচল এবং সৈকতের ভারসাম্য রক্ষায় বেলাভূমি পরিচ্ছন্ন রাখতে উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। দীর্ঘ বছর পর ঝুপড়ি দোকানগুলো উচ্ছেদে সৈকতের নান্দনিকতা বহুগুণ বেড়েছে বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

সায়ীদ আলমগীর/এনএইচআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।