নড়াইলে খালেদা জিয়াকে সশরীরে হাজিরের নির্দেশ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি নড়াইল
প্রকাশিত: ০৬:০৮ পিএম, ১৬ এপ্রিল ২০১৮
নড়াইলে খালেদা জিয়াকে সশরীরে হাজিরের নির্দেশ
ফাইল ছবি

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য ও বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি করার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন আগামী ৮ মে আসামির সশরীরে উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আদেশ দিয়েছেন নড়াইলের আদালত।

সোমবার দুপুরে নড়াইল সদর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদুল আজাদ এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন সিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, নড়াইলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার জামিনের আবেদন করলে আগামী ৮ মে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত।

মামলা পরিচালনার জন্য ঢাকা থেকে আগত বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সুপ্রিমকোর্টের অ্যাডভোকেট মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার ও অ্যাডভোকেট শাহাদৎ হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এ মামলায় ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন আদালত। সমন গ্রহণ না করায় ২৩ আগস্ট খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন একই আদালত।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সমাবেশে বেগম খালেদা জিয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে বলে মন্তব্য করেন।

একই সমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে তাকে (বঙ্গবন্ধু) ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, তিনি স্বাধীনতা চাননি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ চাননি। তার এই বক্তব্য বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রচার হয়।

মামলার বাদী নড়াইলের জেলা পরিষদের ১নং ওয়ার্ড সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নড়াগাতি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হান ফারুকী ইমাম জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে বসে এ খবরটি পড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষুব্ধ হন।

পরে রায়হান ফারুকী বাদী হয়ে ২৪ ডিসেম্বর (২০১৫) দুপুরে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইল সদর আমলি আদালতে একটি মামলা করেন।

এদিকে, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামে নড়াইলের আদালতে ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর দুপুরে আরও একটি মানহানি মামলা করা হয়।

এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবী সম্পর্কে বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগে ওইদিন (২৯ ডিসেম্বর) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নামেও একটি মানহানি মামলা করা হয়।

মামলা দুটি দায়ের করেন শহীদ শেখ জামাল জাতীয় স্মৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কালিয়া উপজেলার যাদবপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ আশিক বিল্লাহ।

হাফিজুল নিলু/এএম/পিআর