শৈলকুপায় ৫ শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় বিক্ষোভ
ঝিনাইদহের শৈলকুপার হাটফাজিলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকসহ ৫ শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেছে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন।
প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস বর্জন ও পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে হাটফাজিলপুর বাজার অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সভাপতির ক্যাডার বাহিনীরা হামলা চালায়।
লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন- বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপানন্দ কুমার মন্ডল, সহকারী শিক্ষক শ্যামল বিশ্বাস, আজিজুল ইসলাম, উত্তম কুমার অধিকারী ও আবুল বাশার।
লাঞ্ছিত শিক্ষকদের বাড়ি অবরুদ্ধ করে রেখেছে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির তোফাজ্জেল হোসেনের ক্যাডার বাহিনী। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের আয়া রাশিদাকেও এই সভাপতি লাঞ্ছিত করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তোফাজ্জেল হোসেন বছর দেড়েক হলো হাটফাজিলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর থেকেই দায়িত্বে অবহেলা, বিদ্যালয়ের অর্থ লোপাট, শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক উপানন্দ কুমার মন্ডলের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ভয়ে মুখ খোলেননি। কাতরকণ্ঠে তিনি বলেন, অন্য শিক্ষকদের কাছে ও আশপাশের লোকের কাছে শোনেন, সব জানতে পারবেন। যদি আমি ঘটনার বিষয়ে মুখ খুলি তাহলে বোঝেনই তো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক বলেন, তোফাজ্জেল হোসেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ার পর থেকেই শিক্ষকদের জিম্মি করে সকল অর্থ লোপাট করে চলেছে। তিনি বেশিরভাগ সময়ই নেশাগ্রস্ত হয়ে কোমরে ছুরি নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। তাই ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করে না।
তবে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, শিক্ষকরাই সব টাকা পয়সা খেয়ে ফেলে। ঠিক মতো ক্লাস করে না। তাই শিক্ষকদের একটু বকাঝকা ও শাসন করেছি।
হাটফাজিলপুর পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই খাইরুজ্জামান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সকাল থেকেই স্কুলের আশপাশে অবস্থান করছে পুলিশ।
শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উসমান গনি জানান, ঘটনাটি তিনি লোকমুখে শুনেছেন। লাঞ্ছিত শিক্ষকরা তাকে জানায়নি। শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা লজ্জাজনক। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আহমেদ নাসিম আনসারী/এএম/পিআর