শাশুড়ি নিয়ে জামাই উধাও

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ০৯:১৯ পিএম, ০৭ মে ২০১৮

মায়ের সঙ্গে স্বামীর অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলে মেয়ে। আর এটাই তার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়ায়। এতে মা ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়েকে বিষ খাইয়ে দেয়।

পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়ের মৃত্যু হলে মেয়ের জামাই ও নিহতের সন্তানকে নিয়ে উধাও হয় মা। এমন অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তরুণী মালা (২০) গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের মামুন ঢালীর স্ত্রী।

অভিযুক্তরা হলেন- ওই এলাকার কাদের ঢালীর ছেলে স্বামী মামুন ঢালী (৩০) ও উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত. জাহাঙ্গীর হাওলাদারের স্ত্রী নিহতের মা নার্গিস বেগম (৩৫)। তিনি চার সন্তানের জননী।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে নিহত মালার পৈতৃক বাড়িতে নিহত মালার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে বুধবার রাতে উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে ঘটে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মালার চাচা হেলাল হাওলাদার জানান, মালার মা চার সন্তানের জননী নার্গিস বেগমের সঙ্গে মালার স্বামী মামুনের অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি মালা দেখে ফেলার কারণেই মালাকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে তার মা ও স্বামী।

গত বুধবার রাতে নিহত মালা তার মা ও স্বামীর মধ্যে অবৈধ কার্যকলাপ হাতেনাতে ধরে ফেলে। এরপর ওই দিনই রাতেই মালাকে বিষ খাইয়ে চিকিৎসার নাম করে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় তার মা ও স্বামী মামুন।

খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারেন মালা মারা গেছে। এ সময় হাসপাতালে তার (মালার চাচা হেলাল হাওলাদারের) উপস্থিতি টের পেয়ে মালার একমাত্র ছেলে মোস্তাফিজকে (২) নিয়ে হাসপাতাল থেকে সটকে পড়ে মালার মা নার্গিস বেগম ও তার মেয়ের স্বামী মামুন।

পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুলিশকে জানালে মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট ও ময়নাতদন্তের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে মালার চাচা হেলাল হাওলাদারের কাছে মালার মরদেহ হস্তান্তর করে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, বাউফল উপজেলার পার্শ্ববর্তী গলাচিপা উপজেলা কলাগাছিয়া গ্রামের কাদের ঢালির ছেলে মামুনের সঙ্গে ৫ বছর আগে বিয়ে হয় মালার। বিয়ের পর থেকে স্বামীর সঙ্গেই থাকত মালা।

সম্প্রতি মালার বাবা জাহাঙ্গীর হাওলাদার মারা যাওয়ার পর মালা ও তার স্বামী মামুন বাউফলের মদনপুরা গ্রামে তার মা নার্গিস বেগমের সঙ্গেই থাকত।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাউফল থানা পুলিশের ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়ভাবে জেনেছি শাশুড়ির সঙ্গে জামাইয়ের পরকীয়া ছিল। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট হাতে পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।