কমলনগরে ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষতি
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে শুক্রবার রাতে বৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বিদ্যালয়, কাঁচা ঘরবাড়ি, গাছ, ধান ও বিভিন্ন রবি ফসলসহ শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও খুঁটি ভেঙে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
ঝড়ের কবলে পড়ে উপজেলার দক্ষিণ চর মার্টিন চৌধুরী বাজার উচ্চ বিদ্যালয় বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। বাতাসে উড়ে গেছে টিনের চাল। এ পরিস্থিতিতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে বিদ্যালয়টিতে। শনিবার সকালে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে গিয়ে শ্রেণিকক্ষে না যেতে পেরে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
স্থানীয়রা জানায়, কমলনগর উপজেলার চর মার্টিন, চর লরেন্স, তোরাবগঞ্জ, হাজিরহাট ও ফলকন, সাহেবেরহাট ও চর কালকিনির বিভিন্ন গ্রামে ঝড় ও শিলাবৃষ্টি আঘাত হানে। ঝড়ের কবলে পড়া দক্ষিণ চর মার্টিন চৌধুরী বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের আধাপাকা ভবন ভেঙে গেছে, টিনের চালা উড়ে গিয়ে অন্যত্র পড়েছে। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির কক্ষ ভেঙে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এতে বিদ্যালয়ের ৪৫০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন স্থানে শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। উড়ে গেছে বসতঘরের টিনের চালা। ভেঙে ও উপড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছোটবড় বিভিন্ন জাতের ৫ শতাধিক গাছ। এ সময় শিলাবৃষ্টিতে সয়াবিন, বাদাম, মরিচ, শাক-সবজিসহ চলতি মৌসুমের ধানের ক্ষতি হয়েছে।

চর মার্টিন গ্রামের কৃষক নুর মোহাম্মদ পাটোয়ারী বলেন, হঠাৎ আসা ঝড়ের সময় প্রচুর শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে ফসলহানি হওয়ায় ধার-দেনা করে ও বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও থেকে নেয়া ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারবেন না তারা। লোকসান গুনতে হবে কৃষকদের।
দক্ষিণ চর মার্টিন চৌধুরী বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন জানান, ঝড়ে বিদ্যালয় বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের পাঠদান অনিশ্চিত।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পেয়েছি। শিক্ষার্থীদের যাতে পাঠদান বন্ধ না হয় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
কাজল কায়েস/এফএ/এমএস