কুলাউড়া থানা থেকে কনস্টেবল নিখোঁজ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি হবিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৮:২৪ পিএম, ১৬ মে ২০১৮
কুলাউড়া থানা থেকে কনস্টেবল নিখোঁজ

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের বাসিন্দা মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানার কনস্টেবল জাহাঙ্গীর আলম উধাও হয়েছেন। গত এক মাস ধরে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

নিখোঁজ কনস্টেবল মো. জাহাঙ্গীর আলম হবিগঞ্জে জেলার শায়েস্তাগঞ্জের পশ্চিম বড়চর গ্রামের বাসিন্দা মো. জহিরুল হকের ছেলে ও কুলাউড়া থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন।

তিনি কর্মস্থলে হাজির হওয়ার জন্য মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার ইতোমধ্যে নোটিশও করেছেন। তার লাপাত্তা হওয়ার পর থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তার মা-বাবাও।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কুলাউড়া থানা পুলিশের ওসি শামীম জানান, সে থানা থেকে উধাও হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজা হচ্ছে। তবে এখনো তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ কনস্টেবল জাহাঙ্গীর আলমের বাবা মো. জহিরুল হক জানান, একামাত্র ছেলে নিখোঁজের খবরে তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি বিভিন্ন স্থানে খোঁজে ছেলের সন্ধান পাচ্ছেন না। ঘুরেছেন বিভিন্ন হুজুরের কাছে। অনেক তাবিজ-কবজ করেছেন। কোনো কিছুতেই ফল পাননি তিনি।

পুলিশের দেয়া নোটিশ ও সাধারণ ডায়রির তথ্যমতে, নিখোঁজ মো. জাহাঙ্গীর আলম কুলাউড়া থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় ১৯ মার্চ সরকারি ডিউটি শুনাতে গেলে তাকে ব্যারাকে পাওয়া যায়নি।

তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তাকে খোঁজার জন্য একজন এসআই’র নেতৃত্বে ফোর্স নিয়োগ করা হয়। কিন্তু তাকে কোথাও খোঁজে না পেয়ে ওই দিনই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

একই দিন বিকেল ৫টায় তাকে কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ঘুরাফেরা করতে দেখে তাকে আটক করে রেলওয়ে পুলিশ।

এ সময় তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিলে রেলওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ বিষয়টি কুলাউড়া থানায় অবহিত করেন। খবর পেয়ে কুলাউড়া থানার পুলিশ রাত আড়াইটায় কুমিল্লা রেলওয়ে ফাঁড়িতে পৌঁছে জানতে পারেন রাত দেড়টায় বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে তিনি পালিয়ে যান।

এরপর থেকে তাকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে ২০ মার্চ আরও একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

গত ২৫ মার্চ পুলিশ সুপার নোটিশ দিয়ে তাকে কর্মস্থলে হাজির হওয়ার জন্য বলেন। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করা হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু তাতেও সাড়া পাওয়া যায়নি তার।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এএম/জেআইএম