স্পিডবোটে ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা পাড়ি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মাদারীপুর
প্রকাশিত: ০৬:১১ পিএম, ২৮ মে ২০১৮

কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই কাঠালবাড়ি ঘাট থেকে লঞ্চের যাত্রীদের স্পিডবোটে ডেকে ডেকে উঠাচ্ছেন চালক। সেই সঙ্গে যাত্রীরাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কম সময়ে স্বল্প খরচে পাড়ি দিচ্ছে পদ্মা নদী।

স্বল্পখরচে পদ্মা নদী দ্রুত সময়ে পাড়ি দেয়ার সুযোগ হাত ছাড়া করতেও রাজি নয় অনেক যাত্রী। তাই প্রতিদিনই কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে দেখা যায় ঝুঁকি নিয়ে স্পিডবোটে ওঠার এ চিত্র।

ঘাট থেকে লঞ্চ ছেড়ে একটু দূরে গেলেই এসব স্পিডবোট লঞ্চের পেছনে এসে স্বল্প ভাড়ায় যাত্রীদের হাকডাক শুরু করে এবং অনেক যাত্রী চলন্ত লঞ্চ থেকে ঝুঁকি নিয়ে স্পিডবোটে ওঠে।

বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ী ঘাট সূত্র জানায়, কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে ৮৭টি লঞ্চ, ১৭টি ফেরি ও দুই শতাধিক স্পিডবোট নিয়মিত চলাচল করে। এর মধ্যে স্বল্পসময়ে পদ্মা নদী পার হওয়ার মাধ্যম হিসেবে স্পিডবোট যাত্রীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

এদিকে, ট্রিপ না থাকলে এক শ্রেণির স্পিডবোট চালক মাঝ পদ্মায় বা ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চ থেকে যাত্রী তুলে পারাপার করে আসছে। সেক্ষেত্রে ভাড়া তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক যাত্রী লঞ্চের পেছন থেকে ঝুঁকি নিয়ে ওঠছেন স্পিডবোটে।

স্পিডবোটে উঠতে যাওয়া যাত্রী আকবর হোসেন বলেন, প্রায়ই নদীর মধ্য থেকে স্পিডবোটে ওঠে পারাপার হই। এতে করে ভাড়া কম লাগে। আবার তাড়াতাড়ি পার হওয়া যায়। তবে নদীর মধ্য থেকে স্পিডবোটে ওঠা ঝুঁকিপূর্ণ।

নদীর মধ্য থেকে এভাবে স্পিডবোটে ওঠার বিরোধিতা করে অপর এক লঞ্চ যাত্রী মো. আসলাম বলেন, আসলে যাত্রীদের খামখেয়ালিপনা রয়েছে। ঝুঁকি জেনেও নদীর মাঝ থেকে এভাবে স্পিডবোটে ওঠে অনেককেই নদী পার হচ্ছে। কিন্তু কোনোভাবে পা পিছলে যদি পড়ে যায় সেক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই আমাদের সচেতন হওয়া উচিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্পিডবোট চালক বলেন, অনেক সময় শিমুলিয়া থেকে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে যাত্রী নিয়ে আসার পর কাঁঠালবাড়ী ঘাটে কোনো ট্রিপ থাকে না। সেক্ষেত্রে খালি বোট নিয়ে ফিরে যেতে হয়। তেলের খরচ ওঠানোর জন্য মাঝেমধ্যে লঞ্চ থেকে কম টাকায় যাত্রী তুলি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএ’র কাঁঠালবাড়ী ঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আক্তার হোসেন বলেন, নদীর মধ্য থেকে যাত্রী তুললে আমাদের কিছু করার থাকে না। বিষয়টি পুলিশকেও আমরা জানিয়েছি। আর লঞ্চের যাত্রীদের এ বিষয়ে সচেতন করার কাজও আমাদের চলছে।

তিনি বলেন, এভাবে লঞ্চ থেকে যাত্রী তোলা সম্পূর্ণ নিষেধ। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি এটা বন্ধ করতে। তবে স্পিডবোট কর্তৃপক্ষের এভাবে লঞ্চ থেকে যাত্রী ওঠানো বন্ধে ভূমিকা রাখতে হবে।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান আহমেদ বলেন, ঘাটের কাছাকাছি থেকে যাত্রী তুললে আমরা পাবলিক বোট নিয়ে গিয়েও তাদের ধরেছি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের শাস্তিও দিয়েছি। নদীর মধ্য থেকে যাত্রী তুললে আমরা অসহায়। তবে নৌ-পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

একে এম নাসিরুল হক/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।