তাকওয়ার চাদরে নিজেকে আবৃত করার মাস রমজান : পীর সাহেব শাজুলিয়া

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৫৬ পিএম, ০৯ জুন ২০১৮

শাজুলিয়া দরবার শরীফ কুমিল্লা মহানগরের উদ্যোগে “মাহে রমজানের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য” বিষয়ক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার হোটেল জমজমে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান মেহমান হিসেবে আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করেন শাজুলিয়া দরবার শরীফের গদ্দিনশীন পীর শাহ সুফী আল্লামা আবুল হাসান শাহ মুহাম্মাদ রুহুল্লাহ শাজুলি (মা.জি.আ)।

পীর সাহেব হুজুর তাঁর আলোচনায় বলেন, আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে রহমাতুল্লিল আলামিন নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (স.) এর উম্মাতের জন্য সবচেয়ে বরকতময় মাস হিসেবে এসেছে রমজান। এ মাসে অবারিত ধারায় পৃথিবীতে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত বর্ষিত হতে থাকে। এ মাসেই রয়েছে লাইলাতুল কদর; যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ রাতে আল্লাহর পক্ষ হতে বান্দার জন্য সকল সমস্যার সমাধান হিসেবে সবচেয়ে মূল্যবান উপহার কুরআনুল কারিম নাজিল হয়েছে।

তিনি বলেন, রমজান হচ্ছে আত্মশুদ্ধি এবং আধ্যাত্মিক শক্তি অর্জনের জন্য চমৎকার একটি মাস। এ মাসে মানুষের মানবিক দুর্বলতা যেমন- কামনা-বাসনা, লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, গীবত-চোগলখুরি ইত্যাদি দূর করার প্রশিক্ষণ পাওয়া যায়। তাকওয়ার চাদর দিয়ে নিজেকে আবৃত করার মাস হল রমজান।

মাহফিলে প্রধান আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন শাজুলিয়া দরবার শরীফের পরিচালক পীরজাদা শাহ মুহাম্মাদ নূরুল্লাহ শাজুলি। তিনি তাঁর আলোচনায় বলেন, রমজান মাস হল ক্ষুধার জ্বালা বুঝার মাস। এ মাসে গরিব, দুঃখী ও অভাবির কষ্ট উপলব্ধি করা যায়। সাহরি ও ইফতারে খাবারের অপচয় না করে গরিবদের মাঝে বণ্টনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, সঠিকভাবে যাকাত ও ফিতরা আদায় ও বণ্টনের মাধ্যমে পৃথিবী থেকে দারিদ্র্য দূর করা যায় সহজেই।

পীরজাদা নূরুল্লাহ শাজুলি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে” স্লোগান দিয়ে যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে, এটা মহাগ্রন্থ আল কুরআন এবং সুন্নাতে নববীর প্রতিধ্বনি। মাদক নিষিদ্ধের মাধ্যমে সোনার বাংলার নওজোয়ানদেরকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা ও কুরআনের বিধান চালু করায় প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। একই সাথে এ কর্মসূচী যেন অব্যাহত থাকে এবং প্রকৃত অপরাধীরা কোনভাবেই যেন ছাড় না পায় সে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মো: আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন পীরজাদা আতাউল্লাহ শাজুলি, মাওলানা শাকের উল্লাহ, হাফেজ মহিউদ্দিন, চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান সরদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াহিদ উল্লাহ সরকার, বার্ড সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, কুমিল্লা মহানগর নেতৃবৃন্দ, দরবার শরীফের মুরিদীন ও মুহিব্বীনসহ শত শত আশেকীন।

পীর সাহেব হুজুরের পরিচালনায় আখেরি মুনাজাত এবং ইফতার বিতরণের মাধ্যমে মাহফিলের কার্যক্রম শেষ হয়। আখেরি মুনাজাতে পীর সাহেব হুজুর উম্মাতের গুনাহ মাফের জন্য এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বের শান্তির জন্য বিশেষ দুআ করেন।

এমএমএস/আরএআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।