ঈদের আগে পানিবন্দি মৌলভীবাজারের শতাধিক গ্রাম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ০৩:১৭ পিএম, ১৪ জুন ২০১৮

আর মাত্র একদিন পরই ঈদ। কিন্তু ঈদের আমেজ নেই মৌলভীবাজারের ৩ উপজেলার লাখো মানুষের জীবনে। হঠাৎ বন্যায় ডুবে গেছে ঘরবাড়ি ফসল ও গবাদিপশু। বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হওয়ায় ঈদের নামাজ আদায় করার জায়গাও নেই অনেক এলাকায়।

কমলগঞ্জের কিছু যায়গা থেকে পানি নামলেও রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলায় প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। অথচ চরম দুর্ভোগে থাকা এলাকাগুলোতে এখনও পৌঁছায়নি ত্রাণ।

তবে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম জানিয়েছেন, প্লাবিত উপজেলাগুলোর জন্য ১১৫ টন খাদ্য এবং ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিতরণও শুরু হয়েছে। আজ বিকেলের মধ্যে বিতরণ শেষ হবে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে যানা যায়, স্থানীয় প্রশাসনের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ প্রশাসন, ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় অফিস, উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।

প্লাবিত ৩টি উপজলা প্রশাসনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুর পর্যন্ত প্লাবিত গ্রামের সংখ্যা শতাধিক। এরমধ্যে রাজনগরে ৪২টি, কুলাউড়ায় ৬০টি ও কমলগঞ্জে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের নিজ নিজ এলাকায় উঁচু জায়গায় ঈদের নামাজের আয়োজন করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছেন, কমলগঞ্জের কিছু এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে তবে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে রাজনগরের ২২টি এবং কুলাউড়ার ৪০টি গ্রাম।

গত ৩ দিনের টানা বর্ষণ এবং উজানে ভারতের ত্রিপুরা এবং মেঘালয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে মৌলভীবাজারের মনু নদ ও ধলাই নদীর পানি বেড়ে ১৩ স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় জেলার কুলাউড়া, রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলার ১৩২টি গ্রাম।

কমলগঞ্জ উপজেলা রহিমপুর ইউনিয়নের মৌলানা আব্দুল বাছিত জানান, এক মাস সিয়াম সাধনার পর আনন্দের ঈদ আসে। কিন্তু এ বছর এই সময়ে ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় সে আনন্দ নেই।

রাজনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসি আক্তার জানান, রাজনগরে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। এদেরকে সাহায্য করছে প্রশাসন।

কমলগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমদুল হক জানান, কমলগঞ্জের বেশীরভাগ এলাকা প্লাবিত। গতকাল থেকে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বানী জানান, শুকনো খাবার ইতোমধ্যে এলাকাগুলোতে পাঠানো হয়েছে। তবে বৃষ্টির জন্য বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না হয়তো।

রিপন দে/এফএ/জেআইএম