প্রকৃতির টানে তিস্তা ব্যারাজে পর্যটকদের ভিড়
এবারের ঈদে দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ ও বিন্যাবতী রানীর বিশাল দিঘি নীলসাগরে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। কৃত্রিম বিনোদন কেন্দ্রের চেয়ে প্রাকৃতিক বিনোদন কেন্দ্রে ভিড় করেছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। তাইতো ভিন্নজগত, স্বপ্নপুরি, আনন্দনগর এবং মায়া কাঁননের মতো কৃত্রিম বিনোদন কেন্দ্রগুলো এবার ঈদ উৎসবে খুব একটা জমেনি।
নগর জীবনের ব্যস্ততা ও শত বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে তিস্তা ব্যারাজে আসা ভ্রমনপিপাসুরা প্রকৃতির ছোঁয়ায় যেন নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন। সোমবার ঈদের তৃতীয় দিন পেরিয়ে গেলেও পরিবার পরিজন নিয়ে আনন্দ ভ্রমণে বেড়িয়েছেন অনেকেই।

তিস্তা পাড়ের বাসিন্দারা নানান রকম খাবার দোকানসহ বাড়তি বিনোদনের জন্য বসিয়েছেন চর্কিখেলা, মিনি লটারি খেলা, বেলুন টার্গেট শুট খেলাসহ বিভিন্ন খেলা। আর এখানে বাড়তি বেচাকেনায় দোকানিরাও বেশ খুশি। আরও বেশি বিনোদন উপভোগের জন্য নদীরপাড়ে প্রস্তুত রয়েছে স্পিডবোট ও নৌকা। স্পিডবোটে জনপ্রতি ১০/২০ টাকার বিনিময়ে ঘুরার সুবিধা রয়েছে।
এদিকে বিন্যাবতী রানীর নীলসাগর দিঘির বিশাল এলাকায় একই অবস্থা। পুরো দিঘি ঘুরে দেখতে রয়েছে ঘোড়ার গাড়ি। এখানেও রয়েছে স্পিটবোড। ভাড়া ২০ টাকা। দিঘি ভর্তি ঠান্ডা পানির পরশ মানুষের মন প্রাণ জুড়িয়ে দিচ্ছে। কেউ কেউ গোসলেও নেমে পড়ছেন। নীলফামারীর জলঢাকায় রয়েছে ধর্মপাল রাজার গড়। চলতি বছরে সেখানে খনন করে পাওয়া গেছে ধর্মপাল রাজার মাটির নিচে তলিয়ে যাওয়া মন্দির, রাজপ্রাসাদসহ অনেক কিছু। এগুলো সংরক্ষণ করছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। এখানেও ছুটে আসছে মানুষজন।

তিস্তা পাড়ের রফিকুল, লেবু, সামিউল বলেন, শুধু ঈদেই নয়, বিশেষ কিছু দিন ও দিবসে তিস্তা তিস্তা ব্যারাজে প্রচুর মানুষ ঘুরতে আসে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, প্রতি বছর বিভিন্ন উৎসবে এখানে মানুষজন ভিড় করে। এবার ভিড়টা আরও বেশি। তাই আনসার সদস্যসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দর্শনার্থীদের সেবায় নিয়োজিত রাখা হয়েছে।
জাহেদুল ইসলাম/আরএআর/জেআইএম