জোঁক আতঙ্কে বিদ্যালয়ে যায় না শিক্ষার্থীরা
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার কাজিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জোঁক আতঙ্কে রয়েছে। বিদ্যালয়ের একাংশে ডোবা ও খেত থাকায় বর্ষার মৌসুমে জোঁকের উৎপাত বেড়ে যায়।
এতে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসলে মাঠে নামতে পারে না। আতঙ্কে নিয়মিত সমাবেশও করা সম্ভব হয় না। সংকট নিরসনে মাঠে বিভিন্ন সময় কীটনাশক ব্যবহার করেও কোনো সুফল আসেনি। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ে কমছে ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি।
ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে ২৫-৩০ ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি দেখা গেছে। জোঁক আতঙ্কে অনেক সহপাঠী বিদ্যালয় আসেনি বলে উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীরা জানায়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে ২৫৩ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। প্রতিবছর বর্ষার মৌসুমে জোঁক আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসা কমিয়ে দেয়। প্রতিষ্ঠানের পূর্বপাশের জমিতে অব্যবহৃত ডোবা ও উত্তর পাশে ফসলের খেত রয়েছে। বর্ষা এলেই এখান থেকে বিদ্যালয়ের মাঠে জোঁকের বিচরণ থাকে। এতে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসে বিরতির সময় খেলাধুলা করতে পারে না। মাঠে নামলেই জোঁকের ভয়ে অনেকে ক্লাস থেকে বের হয় না। গেল বছর জোঁক আতঙ্কে কয়েকদিন বিদ্যালয় বন্ধ ছিল।
শিশু শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ে এসে বিরতির সময়ে জোঁকের কারণে তারা খেলাধুলার জন্য মাঠে নামতে পারে না। প্রতিবছরই একই আতঙ্ক নিয়ে তাদেরকে পাঠদান অব্যাহত রাখতে হয়। সম্প্রতি মাঠে খেলতে নেমে কয়েক শিক্ষার্থী পায়ে জোঁক দেখতে পেয়ে কান্নাকাটি করেছে। পরে ভয়ে ওই শিক্ষার্থীরা কয়েকদিন বিদ্যালয়ে আসেনি।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহমুদা আক্তার বলেন, বর্ষা এলে মাঠে ঘাস বড় হয়ে জোঁকের আবির্ভাব দেখা দেয়। এ জন্য কিছু ছাত্র-ছাত্রী ভয়ে বিদ্যালয়ে আসতে চায় না। তাদের বাড়িতে-বাড়িতে গিয়ে বুঝিয়ে ভরসা দিয়েও বিদ্যালয়ে আনা যাচ্ছে না। অভিভাবকরাও শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকে। একাধিকবার জোঁক নিধনে বিদ্যালয় মাঠে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়েছে। তাতেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে রায়পুর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে জোঁক আতঙ্কের বিষয়ে কেউ আমাকে অবহিত করেনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কাজল কায়েস/এএম/এমএস