খুঁজেই পাওয়া যায় না খাগড়াছড়ির একমাত্র সার্জনকে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি খাগড়াছড়ি
প্রকাশিত: ০১:১০ পিএম, ১৩ জুলাই ২০১৮

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. আব্দুর রবের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের একমাত্র চিকিৎসক ডা. আব্দুর রব সপ্তাহে দুইদিন অফিস করেই দায়িত্ব শেষ করেন। ফলে জেলা সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসক থাকলেও যথা সময়ে মেলে না চিকিৎসা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতাল ছাড়া আর কোনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সার্জারি চিকিৎসক নেই। ফলে সার্জারি রোগীদের একমাত্র ভরসা খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতাল। সেক্ষেত্রে ডা. আব্দুর রব প্রতি সপ্তাহের সোমবার হাসপাতালে এলেও মঙ্গলবার চট্টগ্রামে ফিরে যান। হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া বাধ্যতামূলক হলেও তার তোয়াক্কা করছেন না এ চিকিৎসক।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের গত তিন মাসের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে মাসে গড়ে ১৭৭ জন রোগী সার্জারি বিভাগে ভর্তি হলেও তাদের বেশির ভাগই চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অপারেশনের সিরিয়ালের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়। আবার অনেককেই বাধ্য হয়ে অস্ত্রোপচারের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রামে ছুটতে হয়েছে।

খাগড়াছড়ি ছাড়াও পার্শ্ববর্তী রাঙামাটির লংগদু এবং বাঘাইছড়ির উপজেলার বাসিন্দারা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। একশ শয্যার এই হাসপাতালে সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকের কর্মস্থলে অনুপুস্থিতির কারণে সার্জারি বিভাগ অনকেটা অকার্যকর বিভাগে পরিণত হয়েছে। রোগীদের চিকিৎসা সেবার কথা বিবেচনা করে এর আগে ডা. আব্দুর রবকে হাসপাতালে নিয়মিত হওয়ার জন্য সর্তক করা হলেও তিনি বিষয়টি আমলে নেননি বলে জানা গেছে।

টিউমার নিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে আসা দীঘিনালার জিনতা চাকমা ও পানছড়ির আবদুল করিম ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, সোম ও মঙ্গলবার ছাড়া হাসপাতালে সার্জারি চিকিৎসক পাওয়া যায় না। তাদেরকে বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশন করাতে হয়েছে।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মো. আব্দুর রব বলেন, আমি মাঝে মাঝে চট্টগ্রাম থাকি, আবার মাঝে মাঝে কর্মস্থল খাগড়াছড়ি থাকি। হাসপাতালে থাকাকালীন প্রতি সপ্তাহে ৬-৭টা অপারেশন করার কথাও জানান এ চিকিৎসক। তবে সপ্তাহের সোমবার ও মঙ্গলবার ওটি করার কথা জানান তিনি।

অব্যাহত কর্মস্থলে অনুপুস্থিতির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলম বলেন, আমি এখানে যোগদান করে বিষয়টি জানার পরই তাকে (ডা. আব্দুর রব) কর্মদিবসে নিয়মিত উপস্থিত থাকার জন্য বলি। কিন্তু তিনি অর্জিত ছুটিতে চলে গেছেন। কর্মস্থলে নিয়মিত না হলে বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেয়া হবে এই মর্মেও তাকে সর্তক করা হয়েছে।

মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এফএ/এমএস