অসহায় বৃদ্ধাকে হাত-পা বেঁধে মারধর
সাতক্ষীরায় এক অসহায় বৃদ্ধার সব জমি দলিল করে নিয়ে দড়ি দিয়ে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বৃদ্ধার দূর-সম্পর্কের আত্মীয় শওকত আলীর বিরুদ্ধে। সাতক্ষীরার তালা সদরের আটারই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
বৃদ্ধা গোলজান বিবি (৮৫) আটারই গ্রামের বাসিন্দা। তার আপন বলতে কেউ নেই। অভিযুক্ত শওকত আলী আটারই গ্রামের মোহম্মাদ শেখের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে বৃদ্ধাকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন চালায় শওকত আলী। এতে তার হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায়। আঘাতপ্রাপ্ত হয় শরীরের বিভিন্ন স্থানে। পরে স্থানীয়রা বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে। বর্তমানে তিনি প্রতিবেশী খোকন মোড়লের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধার প্রতিবেশী খোকন মোড়ল বলেন, গোলজান বিবির আপন বলতে কেউ নেই। এক বোন ছিল সেও চার বছর আগে মারা গেছেন। বর্তমানে বৃদ্ধা একটি মাটির ঘরে একা থাকেন। কখনও খাবার জোটে আবার কখনও জোটে না। বৃদ্ধার কিছু জমি রয়েছে। বৃদ্ধা তার জমি থেকে ৪ শতক জমি আটারই মোড়ল ও শেখ পাড়া জামে মসজিদে দান করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে মসজিদ কর্তৃপক্ষ জমিটি মসজিদের উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করে আসছে।
খোকন মোড়ল আরও বলেন, কিছুদিন আগে বৃদ্ধা গোলজান বিবি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থতার সুযোগে দূর-সম্পর্কের আত্মীয় শওকত আলী বৃদ্ধাকে তার বাড়িতে নিয়ে যান। শওকত আলী সেখানে বৃদ্ধাকে অতিমাত্রায় ঘুমের ওষুধ খাওয়ান। একপর্যায়ে বৃদ্ধা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। সেই সুযোগে শওকত আলী বৃদ্ধার ৫৯ শতক জমি নিজ নামে দলিল করে নেন। বৃদ্ধা যে জমিটি মসজিদে দান করেছিলেন সেটিও নিজ নামে দলিল করে নেন শওকত আলী। এছাড়া বৃদ্ধার বয়স্কভাতার সব টাকা হাতিয়ে নেন। জমি ও টাকা ফেরত চাইলে বৃদ্ধাকে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন চালান শওকত।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শওকত আলী বলেন, মারধরের ঘটনা সঠিক নয়। আমি জোর করে জমি লিখে নিইনি। বৃদ্ধা নিজেই আমার নামে জমি লিখে দিয়েছেন। কোনো টাকা-পয়সা আত্মসাৎ করিনি আমি।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন বলেন, বৃদ্ধা মহিলার একটি ভিডিও ফুটেজ দেখেছি। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আকরামুল ইসলাম/এএম/জেআইএম