ইরান যুদ্ধ নিয়ে অচলাবস্থায় ট্রাম্প, স্পষ্ট কৌশলের অভাব
ইরান যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই স্পষ্ট লক্ষ্য বা প্রস্থান কৌশল নির্ধারণ করতে না পারায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন এক ধরনের অচলাবস্থার মুখে পড়েছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
যুদ্ধের মধ্যেই এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তা পদত্যাগ করে প্রকাশ্যে বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি নয় এবং তিনি এই যুদ্ধে সমর্থন দিতে পারেন না—যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে। তবে তিনি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয় ঘোষণা করেননি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একতরফাভাবে যুদ্ধ শেষ করা সম্ভব নয়—এ জন্য উভয় পক্ষের সম্মতি প্রয়োজন। আর ইরান এখনো আত্মসমর্পণের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।
ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন, ইরানের পাল্টা হামলার ব্যাপ্তি তাকে বিস্মিত করেছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলা পরিস্থিতিকে আরও বিস্তৃত করেছে।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় তেলের দাম বেড়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
এদিকে ন্যাটোসহ ইউরোপীয় মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সামরিক সহায়তা থেকে বিরত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক শক্তি দিয়ে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশননের সাবেক প্রধান রিচার্ড হ্যাস বলেন, এই যুদ্ধ থামাতে ইসরায়েল ও ইরান—উভয় পক্ষের সম্মতি প্রয়োজন।
আরেক বিশ্লেষক সিনা টোসি মনে করেন, সম্মান রক্ষা করে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।
জার্মান চ্যান্সেলর জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ ন্যাটোর বিষয় নয় এবং জার্মানি এতে অংশ নেবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে এই সংঘাতে ভালো কোনো সমাধান নেই—শুধু কম ক্ষতিকর বিকল্প রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে শেষ পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে কোনো না কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো ছাড়া বিকল্প নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: এএফপি
এমএসএম