সাড়ে ৭ বছর পর কক্সবাজার পৌরসভার প্রতীক্ষিত নির্বাচন আজ
২০১১ সালে পৌর পরিষদ গঠনের দীর্ঘ সাড়ে সাত বছর পর আজ (২৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত হচ্ছে কক্সবাজার পৌরসভার বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন। নতুন পরিষদ গঠনে পৌর নির্বাচনের ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তফসিল অনুসারে সোমবার (২৩ জুলাই) নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। কিন্তু এরপরও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং মুঠোফোনে সর্বশেষ যোগাযোগটা রক্ষা করে চলেছেন প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা।
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা নির্বাচন অফিস। পৌরসভার ১২ ওয়ার্ডের ৩৯ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের সকল সরঞ্জাম গতরাতেই পৌঁছানো হয়েছে। সরঞ্জামের সাথে কেন্দ্রে পৌঁছে গেছেন নিরাপত্তা ও ভোটগ্রহণে দায়িত্বপ্রাপ্তরা। নিয়মানুসারে সকাল ৮টা থেকেই শুরু হবে কাঙ্ক্ষিত ভোটগ্রহণ। আর একটানা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এমনটি জানিয়েছেন পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসার মো. মোজাম্মেল হোসেন।
তিনি জানান, সুন্দর পরিবেশে ভোটগ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিস। ১২ ওয়ার্ডের ৩৯ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং ও পোলিং এজেন্ট ঠিক করে সবার দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাতেই সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে নির্বাচনী সরঞ্জাম ও দায়িত্বপ্রাপ্তরা। নির্বাচনকালীন কেন্দ্রের নিরাপত্তায় এক হাজার নিরাপত্তাকর্মী রাখা হয়েছে। মাঠে রয়েছে দুই প্লাটুন বিজিবি। আরও থাকছে র্যাবের ৬টি ভ্রম্যমাণ দলও। ৩৯ কেন্দ্রে পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্বপালনে থাকছে একজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ১২টি ওয়ার্ডে ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারা সার্বক্ষণিক তদারকি করবেন।
কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শিমুল শর্মা বলেন, এবার নির্বাচনে ৩৯টি ভোট কেন্দ্রে ৩৯ জন প্রিসাইডিং অফিসারের তত্ত্বাবধানে ২২৪ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ৪৪৮ জন পোলিং এজেন্ট অফিসার দায়িত্বপালন করছেন।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, গত ১০ জুলাই তফসিল ঘোষণার পর প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে মাঠে থাকতে প্রস্তুত চূড়ান্ত প্রার্থিতা নিশ্চিত হয় ৩ জুলাই। এরপর ৪ জুলাই দেয়া হয় প্রতীক বরাদ্দ। এতে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলে পাঁচ মেয়র, ১৭ সংরক্ষিত ও ৬৪ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ ৮৬ জন প্রার্থী সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। পৌরসভার ১২ ওয়ার্ডে ৩৯ কেন্দ্রে ভোট কক্ষ থাকছে ২২৪টি। এরমাঝে অস্থায়ী কক্ষ ১১টি। ৪৪ হাজার ৩৭৩ জন পুরুষ ও ৩৯ হাজার ৩৫৫ জন নারী ভোটার মিলে ৮৩ হাজার ৭২৮ জন নতুন পৌর পরিষদ গঠনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
সূত্র জানায়, সুষ্ঠু নির্বানের লক্ষ্যে মঙ্গলবার মধ্যরাত ১২টা থেকে ২৫ জুলাই মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত ইঞ্জিনচালিত সবধরনের যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে মোটরসাইকেল চলাচলেও। ভোটগ্রহণের পরদিন (২৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। তবে রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বীপ্রার্থী, তাদের এজেন্ট, পর্যবেক্ষক, সাংবাদিক, নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নির্দিষ্ট যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক, টেলিযোগাযোগ কাজে ব্যবহৃত যানবহনে নিষেধাজ্ঞা শিথিল রয়েছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। প্রত্যেক সংস্থা, প্রার্থী, জনতা, রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে আমরা সহযোগিতা পেয়েছি। কক্সবাজার পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে ৩৯টি কেন্দ্রকেই আমরা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে নিয়েছি। সেভাবেই শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রত্যেক কেন্দ্রে ১২ থেকে ১৪ জন পুলিশ দেয়া হয়েছে। থাকবে প্রতি দুইটি কেন্দ্রের জন্য একটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স। তৈরি রাখা হয়েছে বিজিবির আরও একটা টিম।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত রাখতে দরকার সবব্যবস্থাই করা আছে। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে কেন্দ্রে। এরপরও কোথাও কোনো অভিযোগ পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নিবে স্ট্রাইকিং ফোর্স।
সায়ীদ আলমগীর/বিএ