পায়েল ‘হত্যা’ : চালক ও স্টাফদের ফাঁসির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৬:১৪ পিএম, ২৭ জুলাই ২০১৮

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকার বাসিন্দা ও রাজধানীর নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান পায়েল হত্যার দায়ে চালক ও স্টাফদের ফাঁসির দাবি করেছেন চট্টগ্রামের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। হানিফ পরিবহনের মালিককেও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

শুক্রবার (২৭ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে পায়েল ‘হত্যার’ ঘটনার প্রতিবাদে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তারা এসব দাবি করেন। এতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকশ শিক্ষার্থী এবং সন্দ্বীপ উপজেলা ও নগরের হালিশহর এলাকার সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়। পায়েলকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। একজন জলজ্যান্ত মানুষকে জীবিত অবস্থায় খালে ফেলে দেয়ার মত ঘটনা এ দেশে ঘটতে পারে, তা মেনে নেয়া যায় না।

তারা বলেন, পায়েল আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। কিন্তু আমরা চাই না আর কোনো পায়েলকে জীবন দিতে হোক। তাই আমরা রাষ্ট্রের কাছে দাবি জানাচ্ছি, হানিফ পরিবহনের চালক ও সহকারীকে বিচারের আওতায় এনে দ্রুত তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাদের যেন ফাঁসি হয়, এই প্রত্যাশা আমরা করছি। হানিফ পরিবহনের মালিককেও বিচারের আওতায় আনতে হবে। তিনিও এ দায় এড়াতে পারেন না।

সন্দ্বীপ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম বেলায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন দৈনিক সমকালের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক সারওয়ার হাসান জামিল, মানবাধিকার সংগঠক আমিনুল হক বাবু, সন্দ্বীপ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু ইউছুপ রিপন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রুমানা নাসরিন। এ ছাড়া পায়েলের তিন মামা কামরুজ্জামান চৌধুরী টিটু, গোলাম সোহরাওয়ার্দী বিপ্লব ও বাহার চৌধুরী শিপন বক্তব্য দেন।

গত ২১ জুলাই (শনিবার) রাতে হানিফ পরিবহনের (নং ৯৬৮৭) বাসে করে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকার বাসিন্দা ও রাজধানীর নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান পায়েল (২১)। বাসটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানাধীন ভাটেরচর সেতুর কাছে যানজটে পড়ে। বাসযাত্রী সাইদুর প্রস্রাব করতে বাস থেকে নিচে নামেন। এ সময় যানজট কেটে যাওয়ায় বাস দ্রুত টান দিলে পায়েল বাসের দরজার সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খান। এতে তার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হয় এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। বাসের চালক, চালকের সহকারী ও সুপারভাইজার ধারণা করেন, পায়েল মারা গেছেন। এই ভেবে চালকের সহকারী ও সুপারভাইজার পায়েলকে ব্রিজ থেকে ফেলে দিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। অথচ হানিফ পরিবহনের স্টাফ জনি ঘটনার পরদিন পুলিশকে জানান, পায়েল গাড়ি থেকে নেমেছে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন মদনপুর ক্যাসেল রেস্টুরেন্টের সামনে।

জনির কথা অনুযায়ী, পায়েলের গাড়ি থেকে নামার স্থান ও মরদেহ উদ্ধারের স্থানের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। এই দূরত্ব ও পায়েলের পরিবার এবং দুই থানার ওসির বক্তব্যের ভিন্নতার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল পায়েল হত্যার রহস্য। বিষয়টিকে সামনে এনে সাইদুর রহমান পায়েল নিখোঁজের তিনদিন পর গত ২৪ জুলাই ‘বাস থেকে নেমেছিল কোথায় পায়েল?’ শিরোনামে জাগো নিউজে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

সংবাদ প্রকাশের একদিন পরেই বুধবার (২৫ জুলাই) হানিফ পরিবহনের সুপারভাইজার ও চালক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, ‘নারায়ণগঞ্জে নয়, প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানার ভাটেরচরেই বাস থেকে নেমেছিল পায়েল। পরবর্তীতে যানজট নিরসন হলে বাসটি দ্রুত চালানোর চেষ্টা করা হয়। এমতাবস্থায় বাসে উঠতে গিয়ে বাসের দরজার সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে পায়েলের। এতে তার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে বাসচালক, চালকের সহযোগী ও সুপারভাইজার পায়েলকে মৃত ভেবে ব্রিজ থেকে ফেলে দিয়ে চলে আসেন।’

জেডএ/পিআর