ভোগান্তিতে লক্ষাধিক মানুষ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৮:১৯ পিএম, ০৪ আগস্ট ২০১৮

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নলডাঙ্গা-বামনডাঙ্গা সড়কের বেহাল দশার কারণে প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ কারণে যাতায়াতে সময় ও ভাড়া দুটোই বেশি লাগছে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়ছে এ পথে চলাচলকারীরা।

এছাড়া এই সড়কে চলাচলের কারণে প্রায়ই যানবাহন নষ্ট হচ্ছে। এতে করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চালক ও মালিকরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির অসংখ্য স্থানের কার্পেটিং (পিচ) উঠে গেছে। অনেক স্থানেই ইটের খোয়া উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্তের। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই ওইসব গর্তে জমে থাকছে পানি। বিশেষ করে নলডাঙ্গায় খাদ্য গোডাউনের সামনের সড়কের অবস্থা একেবারেই বেহাল। ফলে এই পথ দিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকসা-ভ্যান ও অটোরিকসা চলাচল করছে দুলে দুলে। এতে করে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষদের।

jagonews24

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে পলাশবাড়ী হয়ে রংপুরে যেতে বেশি সময় লাগে। গাইবান্ধা-লক্ষীপুর-সুন্দরগঞ্জ সড়কের ধোপাডাঙ্গা থেকে নলডাঙ্গা-বামনডাঙ্গা বাইপাস সড়ক হয়ে রংপুরে যেতে যাতায়াতে সময় কম লাগে। এ ছাড়া এপথে মহাসড়কের তুলনায় যানবাহন কম চলাচলের কারণে এই বাইপাস সড়কটি অত্যন্ত নিরাপদ অনেকের কাছে। আর তাই এই সড়কটি অনেকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সড়কটির বেহাল দশার কারণে অনেকেই আর এই পথ দিয়ে চলাচল করেন না। আর তাই অন্য পথ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মানুষজন।

শুধু তাই নয় সড়কটি ভালো থাকার সময় আশেপাশে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। অপরদিকে বামনডাঙ্গা-রংপুর ও বামনডাঙ্গা-সুন্দরগঞ্জ তিন সড়কের মোড়ে জাতীয় পার্টির অফিসের সামনে সড়কটি নিচু থাকায় সেখানে পানি জমে থাকে। ফলে যাতায়াতকারীদের সেখানেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এর আগে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় সেখানে সড়কটি নষ্ট হয়ে গেলে আবার সেটি মেরামত করা হয়। আবারও পানি জমে থাকায় সেটি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সড়কটি নষ্ট হওয়ার আগেই সেটির স্থায়ী সমাধান জরুরি বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

jagonews24

অটোরিকসা চালক সেলিম মিয়া বলেন, সড়কটার এতোটাই বেহাল অবস্থা যে ১০ মিনিটের রাস্তা যেতে সময় লাগছে ২০ মিনিট। প্রায়ই বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে আবার সেটি মেরামত করতে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। তাই ভাড়াও নিতে হচ্ছে বেশি। কিন্তু রাস্তাটি ভালো থাকলে ভাড়া কম নেয়া যেতো। এ ছাড়া সড়কটির বেহাল দশার কারণে মানুষ এই পথ দিয়ে চলাচল করে কম। আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

এসব বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল মনছুর মুঠোফোনে জাগো নিউজকে বলেন, প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি বর্তমানে ১২ ফুট প্রশস্ত আছে। সড়কটি, ২০১৭ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, অবকাঠামো মেরামত/সংস্কার প্রকল্পের আওতায় দুইপাশে আরও ৩ ফুট করে মোট ৬ ফুট প্রশস্তকরণের প্রস্তাবনা অনুমোদন হয়েছে। দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। প্রক্রিয়া শেষে কাজ শুরু করা হবে।

jagonews24

রওশন আলম পাপুল/এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।