যমজ সন্তান নিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৫:৪৫ পিএম, ১২ আগস্ট ২০১৮

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় যমজ সন্তান নিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন সালেহা আক্তার (২২) নামে এক তরুণী। গত বুধবার থেকে তিনি উপজেলার কৈলাটী ইউনিয়নের বেলতলী গ্রামের আফসর উদ্দিনের ছেলে প্রেমিক মজনু মিয়ার (২৫) বাড়িতে স্ত্রীর অধিকার ও যমজ সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দাবিতে অবস্থান করছেন।

এ ঘটনায় কলমাকান্দা থানায় সালেহার বাবা সাফাজ্জল হোসেনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ শনিবার রাতে মজনু মিয়ার মা জাকিয়া আক্তার শোভাষকে আটক করেছে।

সালেহার পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সামাজিক ও পারস্পারিক আলোচনার মাধ্যমে প্রায় ছয় মাস পূর্বে উপজেলার কৈলাটী ইউনিয়নের বেলতলী গ্রামের সাফাজ্জল হোসেনের মেয়ে সালেহা আক্তারের সঙ্গে একই ইউনিয়নের বীর সিধলী গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে বিল্লাল হোসেনের (৩০) বিয়ে সম্পন্ন হয়। গত ২১ জুলাই শনিবার সালেহা তার বাবার বাড়িতে যমজ দুই ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। এরপর এনিয়ে ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

সালেহা আক্তারের স্বামী বিল্লাল হোসেন জানান, তিনি চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি সালেহা আক্তারের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এখন তাদের বিয়ের বয়স ছয় মাস। কিন্তু সালেহা যে যমজ দুই সন্তানের জন্ম দিয়েছে তাদের বয়স নয় মাস। তাই তিনি ওই দুই সন্তানের বাবা নন।

যমজ সন্তানের জননী সালেহা আক্তার জানান, বিয়ের আগে একই গ্রামের আফসর উদ্দিনের ছেলে মজনু তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। এ প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে তিনি মজনুর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেন। এরই একপর্যায়ে মজনু তাকে বিয়ে করবে বলে তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এই দুই যমজ সন্তানের বাবা মজনু।

তিনি আরও জানান, গত বুধবার থেকে তিনি সন্তানদের অধিকারের দাবিতে মজনুর বাড়িতে অবস্থান করছেন। কিন্তু মজনুর পরিবারের কেউ তাকে ও তার সন্তানদের মেনে নিচ্ছে না। উল্টো বাড়ি থেকে যমজ সন্তানসহ তাকে মারপিট করে টেনে হিঁচড়ে বের করে দিতে চাইলে প্রতিবেশীরা বাধা দেয়।

সালেহার মা জুবেদা খাতুন বলেন, সালেহার প্রেমের কথা জানা ছিল না। আর তার গর্ভে যে সন্তান রয়েছে শরীর দেখে আমি তা বুঝতে পারিনি। বিষয়টি না জেনেই আমরা সালেহাকে বিল্লালের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলাম।

এ বিষয়ে মজনুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যানি। তবে মজনুর বোন মিতু আক্তারের দাবি- সালেহার গর্ভের সন্তানদের বাবা তার ভাই মজনু নয়।

কলমাকান্দা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মিজানুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মজনুর মাকে আটক করা হয়েছে। এলাকাবাসী বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চালাচ্ছে।

কামাল হোসাইন/আরএআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :