একনেকে অনুমোদন হলেই সুফল পাবে ১০ লাখ মানুষ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৬:৪৪ পিএম, ১২ আগস্ট ২০১৮

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় গাইবান্ধা-নাকাইহাট-গোবিন্দগঞ্জ রাস্তার প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আর প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে গাইবান্ধা সদরসহ, পলাশবাড়ী, সুন্দরগঞ্জ, গোবিন্দগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ১০ লাখেরও বেশি মানুষ এর সুফল ভোগ করবে।

কেননা, গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী-গোবিন্দগঞ্জ রাস্তার চেয়ে গাইবান্ধা-নাকাইহাট-গোবিন্দগঞ্জ রাস্তায় ১০ কিলোমিটার কম হয়। আর তাই প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ এই রাস্তায় চলাচল করে। কিন্তু বর্তমানে রাস্তার প্রস্থ কম হওয়া ও কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিরও শিকার হতে হচ্ছে মানুষজন।

গাইবান্ধা সড়ক ও জনপথ (সওজ) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা-নাকাইহাট-গোবিন্দগঞ্জ ২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটির প্রস্থ ১২ ফুট ও গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী-গোবিন্দগঞ্জ রাস্তাটি ৩৯ কিলোমিটার। নতুন প্রস্তাবনায় গাইবান্ধা-নাকাইহাট-গোবিন্দগঞ্জ রাস্তাটির প্রস্থ ১৮ ফুট করা হয়েছে। আর ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। যা একনেক সভায় রয়েছে অনুমোদনের অপেক্ষায়।

southeast

সরেজমিনে গাইবান্ধা-নাকাইহাট-গোবিন্দগঞ্জ রাস্তাটি ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার প্রস্থ কম হওয়ার কারণে বাস, ট্রাক ও ট্রাক্টর চলাচলের সময় থেমে থেমে চালাতে হয় চালকদের। এতে করে বেশ বিপাকে পড়তে হয় অন্য যানবাহন চালকদের। এই রাস্তাটি দিয়ে বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, সিএনজি, রিকশা-ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে।

জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটির অনেকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত স্থান সম্প্রতি নতুন করে কার্পেটিং (পিচ) করা হয়েছে। এখনও ২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটির মধ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে যাত্রীরা যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

রাস্তাটির অনেক স্থানেই নেই ফুটপাত। বেশ কিছু স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় গর্তের। ফলে বেড়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

ওই সড়কে চলাচলকারী সিএনজিচালক ফুলমিয়া বলেন, রাস্তার প্রস্থ কম থাকা ও বেহাল দশার কারণে আমরা এ রাস্তার সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তাই দ্রুত রাস্তাটির প্রস্থ বৃদ্ধি করে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো পাকাকরণ করা।

southeast

রাস্তাটি প্রসঙ্গে সচেতন নাগরিক ডা. মো. আব্দুর রউফ বাদশা জাগো নিউজকে বলেন, সম্প্রতি এসকেএস স্কুল ও কলেজকে কেন্দ্র করে এই সড়কটিতে যানবাহনের চলাচল আরও অনেক বেড়ে গেছে। রাস্তার প্রস্থ কম হওয়ায় যে কোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। তাই এই রাস্তাটি জরুরিভিত্তিতে দ্বিগুণ প্রশস্থ করা দরকার।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, প্রস্থ বাড়ানোসহ এই রাস্তার একটি প্রকল্প সড়ক অধিদফতরে পাঠানো হয়েছিল। এখন সেটি একনেক সভায় পাশ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী মঙ্গলবার একনেক সভা আছে। এই রাস্তার প্রকল্পটি সেই সভায় পাশ হতে পারে।

রওশন আলম পাপুল/এমএএস/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :