নওগাঁয় পশুর দাম কম থাকায় লোকসানের আশঙ্কা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ১১:০২ এএম, ১৩ আগস্ট ২০১৮

নওগাঁর বিভিন্ন হাটে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশু। হাটে পশুর আমদানি যথেষ্ট হলেও ক্রেতাদের আনাগোনা এখনও শুরু হয়নি। পশুর দাম অন্যান্যবারের থেকে এবার তুলনামূলক কম। ফলে ন্যায্যমূল্য না পেলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন খামারিরা।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ১৯ হাজার খামারে পশু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। এসব খামারে কোরবানির পশুর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজারটি। এরমধ্যে ৯০ হাজার গরু ও মহিষ এবং ৭০ হাজার ছাগল, ভেড়া ও গারলসহ অন্যান্য।

বুধবার ছিলো জেলার মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজিহাট। নওগাঁ সদর উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের উজ্জল হোসেন অস্ট্রেলিয়ান জাতের একটি গাভী হাটে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, সেই দুপুরে গরু নিয়ে এসেছি। দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ক্রেতারা দাম বলেছেন ১ লাখ টাকা। ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে অনেকটাই ক্লান্ত ও বিরক্ত হয়ে পড়েছি। দামদরে না হওয়ায় অবশেষে ফেরত নিতে হয়েছে।

naogaon-cow-bazar

মহাদেবপুর উপজেলার পয়নাড়ি গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ২ দাঁতের কালো রঙের জার্সি জাতের ষাঁড়টি গত ৫-৬ মাস আগ থেকে লালন পালন করছেন। দাম ধরেছেন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ক্রেতারা বলছেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ওই দামে বিক্রি করতে হয়েছে।

বদলগাছী উপজেলার কোলা গ্রামের খামারি জামাল হোসেন বলেন, এ বছর কোরবানি উপলক্ষে পাঁচটি গরুর লালন পালন করছেন। বাজারে গো-খাদ্যের দাম বেশি। গরু লালন পালন করতে গিয়ে খরচটা বেশি পড়েছে। বাজারে বিক্রি করতে গেলে প্রতি গরুতে প্রায় ৫-৬ হাজার টাকা লোকসান হবে। তবে ভারত থেকে যদি অবৈধপথে গরু না আসে তাহলে খামারিরা দাম পাবেন বলে জানান তিনি।

naogaon-cow-bazar

হাট মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, কোরবানি পশুর হাট জমে উঠেছে। কিন্ত কেনাবেচা অত্যন্ত কম। হাটে যে পরিমাণ গরু আমদানি হচ্ছে সে হারে বিক্রি হচ্ছে না। বিশেষ করে খামারিরা যেভাবে গরু লালন পালন করেছেন তার প্রকৃত মূল্য না পাওয়ায় বিক্রি করছেন না। আমরা আশা করছি যেহেতু ভারত থেকে গরু আসছে না, সেহেতু ঈদের আগে যে কয়টি কোরবানির হাট আছে খামারিরা দাম পাবেন। অন্যথায় লোকসান গুনতে হবে।

নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. উত্তম কুমার সরকার বলেন, আশা করা হচ্ছে ঈদ এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পশুর দাম কিছুটা বাড়বে। এ বছর কুরবানির পশুর চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে সরবরাহ করা হবে। দেশের বাইরে থেকে যদি আমদানি হয় সেক্ষেত্রে পশুর দাম কমার সম্ভবনা আছে।

আব্বাস আলী/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।