আতঙ্কে চলাচল করতে হয় দুই ইউনিয়নের মানুষকে
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ঢোলভাঙ্গা-আমলাগাছী সড়কের ডাকেরপাড়া-ছোটভগবানপুর এলাকায় নলেয়া নদীর উপর সেঁতুটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সেঁতুর দুই পাশেই পাটাতন (ডেস্ক স্লাব) ও রেলিং ভেঙে গেছে।
তারপরও প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সেঁতুটি দিয়ে চলাচল করছে। ভারি কোনো যানবাহন চলাচলের সময় যে কোনো মুহূর্তে সেঁতুটি ভেঙে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এ আশঙ্কায় একই স্থানে একটি নতুন সেঁতু নির্মাণের দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেঁতুটি পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ও মহদীপুর ইউনিয়নের সীমানায় পড়েছে। দেড় বছর আগে পাথর বোঝাই ট্রাক চলাচলের সময় সেঁতুটির উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তে পাটাতনের (ডেস্ক স্লাব) অনেকটা অংশ ভেঙে যায়। এরপর আর সে অংশগুলো মেরামত করা হয়নি। এ অবস্থাতেও সেঁতুটির উপর দিয়ে বাস, ট্রাক, ট্রাক্টর, ট্রলি, অটোরিকশা-ভ্যান, সাইকেল-মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করছে।

ঝুঁকিপূর্ণ এই সেঁতুটির কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে এলাকার মানুষ। প্রতিদিন সেঁতুটির উপর দিয়ে মহদীপুর, বরিশাল ও মনোহরপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ প্রায় ১০ হাজার মানুষ চলাচল করে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেঁতুটির উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে মানুষকে সতর্ক করার জন্য সেঁতুর ভেঙে যাওয়া অংশের চারপাশে স্থানীয়রা মাটি ও গাছের ডালপালা দিয়েছেন। সেঁতুটির দুই পাশেরই রেলিংয়ের বেশির ভাগ অংশ ভেঙে উন্মুক্ত হয়ে আছে।
কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সরাসরি সে কোনো যানবাহন নদীতে গিয়ে পড়বে। সেঁতুর একটি পিলারের (পায়ার) নিচ থেকে বেশ কিছু ইট খুলে গেছে। সেঁতুর নিচের অংশে প্লাস্টার খুলে লোহা বেরিয়ে আছে। সেঁতুটি দেখলেই বোঝা যায় এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ সেঁতু। সেঁতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও দুইপাশে দেয়া হয়নি কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড।

অটোচালক রায়হান মিয়া (৩২) বলেন, সেঁতুটির উপর দিয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে আমাদের চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে বেশি ভোগান্তির শিকার হতে হয়। যখন কোনো ট্রাক বা বড় কোনো যানবাহন সেঁতুটির উপরে ওঠে তখন সেটি পার হয়ে না যাওয়া পর্যন্ত সেঁতুটির একপাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করি। প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনার শিকার হয় মানুষসহ যানবাহন। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এই সেঁতুটি ভেঙে এখানে একটি নতুন সেঁতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
মহদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম মন্ডল জাগো নিউজকে বলেন, এই সেঁতুটির উপর দিয়ে মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। উপজেলা পরিষদের সমন্বয় মিটিংয়ে আমি বিষয়টি সবাইকে জানিয়েছি। খুব দ্রুত এখানে একটি নতুন সেঁতু নির্মাণ করা দরকার। তা না হলে যে কোনো সময় দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহিম শেখ জাগো নিউজকে বলেন, এখানে একটি নতুন সেঁতু নির্মাণের প্রস্তাবনা ঢাকায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন ও বরাদ্দ পাওয়া গেলে সেঁতুটি নির্মাণ করা হবে।
রওশন আলম পাপুল/এমএএস/জেআইএম