দেশের মাটিতে পা রেখেই পরিবারের ৫ জনকে হারালেন সবুজ মিয়া

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০৩:০৪ পিএম, ২০ আগস্ট ২০১৮

কাজল কায়েস 

তিন বছর আগে ধার দেনা করে কাতার যান সবুজ মিয়া। এরপর থেকে সবুজ মিয়ার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে তার বাবার বাড়িতে থাকতেন। ঈদ উপলক্ষে ছুটি নিয়ে সবুজ মিয়া রোববার রাতে দেশে আসেন। তাকে আনতেই মাইক্রোবাসযোগে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে উদ্দেশে রওনা দেয় পরিবারের ১২ সদস্য।

মাইক্রোবাসটি ফেনীর মুহুরীগঞ্জ সুলতানা ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছলে গরু বোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই চালক ও ৫ সদস্য নিহত হন। এ ঘটনায় মাইক্রোবাসের আরো ৭ যাত্রী আহত হয়।

রোববার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে ফেনীর মুহুরীগঞ্জ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

Lakshmipur

এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মান্দারীর মটবী ও চন্দ্রগঞ্জ এলাকায় নিহতদের গ্রামের বাড়িতে চলছে কান্নার রোল। স্বজন হারানোর আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠছে এলাকাটির। শোকে মূর্ছা যাওয়া স্বজনদের সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা যেন হারিয়ে ফেলছে প্রতিবেশীরা।

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন- প্রবাসী সবুজ মিয়ার ছেলে নাহিদুল ইসলাম শুভ (৭) ও মাইদুল ইসলাম নোমান (২), শাশুড়ি জাহানারা বেগম (৫৫), ভায়রার মেয়ে পপি আক্তার (১৫) ও বোন রুনা আক্তার (৩৫)। এ ঘটনায় মাইক্রোবাস চালক আব্বাছ মিয়াও (৪০) মারা গেছেন। চালকের আব্বাস মিয়ার বাড়ি চন্দ্রগঞ্জের রামকৃষ্ণপুর গ্রামে, বাকিদের মান্দারীর মটবী গ্রামে।

Lakshmipur

আহতদের ফেনী ও লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাদের মাথা, হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক জখম হয়।

নিহত জাহানারা বেগমের ভাই মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, এ মৃত্যুর কথা আমরা ভাবতেও পারি না। সবুজ ছুটি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে দেশে এলো। আর এখনই চিরদিনের জন্য ছয়জনের বিদায় হলো। অসহায় পরিবারগুলোর জন্য সরকারের কার্যকরী সহায়তার দাবি জানান তিনি।

কাজল কায়েস/এফএ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :