কুয়াকাটায় কয়েকশ’ একর জমিতে ফলন না হওয়ার আশঙ্কা

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
প্রকাশিত: ০৯:৪২ পিএম, ২৮ আগস্ট ২০১৮

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় প্যাকেটের গায়ে বীজের জাত পরিবর্তন, মূল্য বৃদ্ধি ও মেয়াদউত্তীর্ণ উচ্চ ফলনশীল ধানের বীজ সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যার ফলে কুয়াকাটা পৌরসভা ও লতাচাপলী ইউনিয়নের কৃষকদের কয়েক’শ একর জমিতে ফলন না হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী কৃষকরা এমন সর্বনাশের পেছনে অসাধু ব্যবসায়ীরা জড়িত থাকার অভিযোগ করলেও ব্যবসায়ীরা আমতলী উপজেলার কচুফাতরা এলাকার বিএডিসি কর্তৃক নিয়োগকৃত পরিবেশক মো. আবু মিয়াকে দায়ী করেছেন।

গতকাল সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুই শতাধিক কৃষক লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে। শেষ পর্যন্ত কৃষকরা কোনো সুরহা না পেয়ে বীজ সরবরাহকারী দোকানগুলো বন্ধ করে দিয়েছে।

kuakata1

সরেজমিনে দেখা গেছে, লতাচাপলী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা আমন ক্ষেতে রোপন করা ধানের বীজ ও প্যাকেট নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন কর্তৃক সরবরাহকৃত বীজের প্যাকেটের গায়ে লাল কালীর লেখার উপর কাটাছেড়া দেখা যায়। যার ফলে কৃষকরা এসব বীজ ক্ষেতে রোপন করার ১৫ দিনের মাথায় অপরিপক্ক ধান গাছে ফলন এসে গেছে। এ বীজ জমিতে রোপন করে কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। চলতি আমন মৌসুমে পুনরায় চাষাবাদ করে ধান রোপন করাও সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে মৎস্য বন্দর আলীপুর বাজারের ব্যবসায়ী মো. আমির শরীফ বলেন, আলীপুর বাজারে হঠাৎ ব্রিধান ৪৯ এর চাহিদা বেড়ে যায়। স্থানীয় পরিবেশকের কাছে ধান না পেয়ে আমতলী উপজেলার কচুফাতরা এলাকার বিএডিসি কর্তৃক নিয়োগকৃত পরিবেশক মো. আবু মিয়ার মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স থেকে বীজ সংগ্রহ করে বিক্রয় করেছি। এ ধান আমার নিজের জমিতেও রোপন করেছি।

kuakata1

লতাচাপলী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভে আসা হারুন মাতুব্বর, জলিল গাজী, এনায়েত হোসেন, জসিম উদ্দিন, শাকু কাজীসহ অনেক কৃষক জানান, মৎস্য বন্দর আলীপুর বাজারের ব্যবসায়ী চাঁনমিয়া বেপারী, আমির শরীফ, মাসুম বিল্লাহ, আবুল কালাম এদের দোকান থেকে বীজ ক্রয় করে ক্ষেতে রোপন করেছেন। কিন্তু পনের দিনের মাথায় অপরিপক্ক ধান গাছে ফলন এসে যায়। যার ফলে তাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। যা চলতি মৌসুমে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শিপন চন্দ্র ঘোষ জানান, আমি বিষয়টি শুনে সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই ভুক্তভোগী কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পরামর্শ দেয়া হবে।

কাজী সাঈদ/এমএএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।