বরগুনার ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নেই

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বরগুনা
প্রকাশিত: ০৭:১৬ পিএম, ১৪ মার্চ ২০২৬

বরগুনা শহরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শহরের একমাত্র ফিলিং স্টেশনসহ অধিকাংশ খুচরা দোকানে পেট্রোল ও অকটেন না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। এ অবস্থায় পৌরশহরের একটি দোকানে সীমিত পরিমাণ তেল বিক্রি হওয়ায় সেখানে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছেন মানুষ।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল থেকে বরগুনা পৌর শহরের কাঠপট্টি এলাকায় তানহা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পেট্রোল থাকার খবর পাওয়ায় দীর্ঘ লাইন দিয়ে জ্বালানি নিয়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা।

সরেজমিনে বরগুনার বিভিন্ন জ্বালানি তেল ও ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নে অবস্থিত শহরের একমাত্র ফিলিং স্টেশন এস অ্যান্ড বি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পে ‘অকটেন ও পেট্রোল নাই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে। ফলে তেল নিতে এসে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অপরদিকে সরবরাহ নেই দাবি করে ক্ষুদ্র দোকানে তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছেন ডিলাররা। এ কারণে প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন গন্তব্যে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকসহ দূরদূরান্তে যাতায়াত করা বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। এছাড়া বিভিন্ন পণ্য পরিবহনেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বরগুনার বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের।

ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক মো. মন্টু চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, আমি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসার চালাই। বিভিন্ন দোকান ঘুরেও তেল পাইনি। শেষে পাম্পে এসে দেখি এখানে ‘পেট্রোল-অকটেন নাই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে।

বরগুনার ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নেই

আরেক মোটরসাইকেল চালক মাসুদ শিকদার বলেন, প্রতিদিন অন্তত ৫০০ টাকার তেল লাগে। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে ১০০-২০০ টাকার তেল কিনতে পেরেছি। তবে আজকে কোথাও তেল না পেয়ে পাম্পে এসে দেখি এখানেও তেল নাই। এমনিতেই তেলের অভাবে আগের মতো সারাদিন গাড়ি চালাতে পারি না। এভাবে চললে আমাদের আয় বন্ধ হয়ে যাবে।

সদর উপজেলার কেওড়াবুনীয়া এলাকার নার্গিস স্টোর নামে একটি খুচরা তেল বিক্রির দোকানের ব্যবসায়ী মোসম্মৎ নার্গিস সুলতানা জাগো নিউজকে বলেন, আমার দোকানে বিক্রির জন্য বর্তমানে কোনো অকটেন ও পেট্রোল নেই। গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে বিক্রির জন্য কোনো তেল পাচ্ছি না। প্রতিদিন যোগাযোগ করলেও কবে তেল পাওয়া যাবে তা এখন পর্যন্ত জানতে পারিনি।

একই এলাকার তামিম স্টোর নামে আরেকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের খুচরা তেল বিক্রেতা শারমিন বলেন, বরগুনায় তেল সংকট শুরু হওয়ার পর দোকানে যে তেল ছিল তাতে তিন-চারদিন বিক্রি করতে পেরেছি। এরপর আর তেল পাইনি। আমরা পাম্প থেকে তেল এনে দোকানে বিক্রি করি। কিন্তু এখন তারা তেল দিতে পারছেন না। এছাড়াও কবে দিতে পারবে তাও বলতে পারছেনা। আর এ কারণেই আমাদের তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে।

বরগুনার ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নেই

এদিকে বরগুনা পৌর শহরের তানহা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি দোকানে সীমিত পরিমাণ পেট্রোল বিক্রি হওয়ায় সেখানে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে এক থেকে দুই লিটার করে তেল সংগ্রহ করছেন চালকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাহারা দিচ্ছে পুলিশ। দোকানটির মালিক মো. সেলিম মো. সেলিম বলেন, গত পাঁচ তারিখ আমি তেল সংগ্রহ করতে পেরেছি। ওই দিন থেকেই অল্প অল্প করে তেল বিক্রি করছি। আজকে কোথাও তেল না থাকায় আমর এখানে তেল নিতে অতিরিক্ত ভিড় সৃষ্টি হয়েছে। পরে প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে মানুষকে তেল দিচ্ছি। তবে গত ৫ মার্চের পর নতুন করে কোনো তেল সংগ্রহ করতে পারিনি। আজ দুপুরের পর তেল শেষ হয়ে গেলে আর পওয়ার সম্ভাবনাও দেখছি না।

পেট্রোল ও অকটেন সংকটের বিষয়ে এস অ্যান্ড বি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার রিপন কুমার ব্যাপারী জাগো নিউজকে বলেন, গতকাল রাত ১১টার দিকে আমাদের পাম্পে পেট্রোল ও অকটেন শেষ হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার ডিপো বন্ধ থাকায় আমরা তেল পাইনি। আগামী রোববার ডিপো থেকে আমাদেরকে তেল দেওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে কী পরিমাণ বা কোন তেল দিবে তা নিশ্চিত বলতে পারছি না।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সজল চন্দ্র শীল জাগো নিউজকে বলেন, যতটুকু জেনেছি তেলের সংকট নেই, বরিশালের ডিপো থেকে জানানো হয়েছে। এছাড়াও সরকারিভাবে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে, তারা মনিটরিং করছেন। তবে এস অ্যান্ড বি ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল এবং অকটেন নাই লিখে সাইনবোর্ড দেওয়ার বিষয়টি তিনি অবগত নন বলে জানান।

নুরুল আহাদ অনিক/এমএন/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।