ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তিন চাকার যানের দৌরাত্ম্য

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১০:০৯ এএম, ২৯ আগস্ট ২০১৮

হাত দেখালেই থেমে যাচ্ছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা, যাত্রীদের নামিয়ে দেয়া হচ্ছে যত্রতত্র। নিত্যদিন এমন দৃশ্যের দেখা মেলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অংশে। দিন দিন এ মহাসড়কে বেড়েই চলেছে সিএনজি অটোরিকশাসহ তিন চাকার যানবাহনের দৌরাত্ম্য।

অভিযোগ রয়েছে, হাইওয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করেই মহাসড়কে যাত্রী পরিবহন করে আসছে তিন চাকার নিষিদ্ধ যানবাহনগুলো। এতে করে রোধ করা যাচ্ছে না সড়ক দুর্ঘটনা।

মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিন ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ঘুরে দেখা গেছে তিন চাকার যানবাহনের দৌরাত্মের এমন চিত্র। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে সরাইল বিশ্বরোড পর্যন্ত অবাধে চলছে সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক। বিধি-নিষেধ না মেনে যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছে তিন চাকার এ যানগুলো।

পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে যেসব দুর্ঘটনা ঘটে তার অধিকাংশই তিন চাকার যানবাহনের কারণে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তিন চাকার যানবাহনের যাত্রীরাই হাতহত হন দুর্ঘটনাগুলোতে। এসব দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিলে নিত্যদিন যুক্ত হচ্ছে নতুন মুখ। আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন অনেকেই। তবে মহাসড়কে তিন চাকার এ যান চলাচল বন্ধ হলে দুর্ঘটনার হার ৯০ ভাগ কমে আসবে বলে দাবি বাস চালকদের।

Bbaria-highway-(2)

মধ্যবয়সী বাসচালক শামছু মিয়া বলেন, মহাসড়কে একটা বাস ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার গতিতে চলে। হুট করে একটা সিএনজি অটোরিকশা সামনে চলে এলে আর কন্ট্রোল করা যায় না, তখন বাধ্য হয়েই চাপা পড়ে যায়।

দেশের অন্য কোনো মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন চলে না। অথচ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবাধে চলছে তিন চাকার যানবাহন। চললে সব জায়গায় চলুক নয়তো এসব বন্ধ করে দেয়া হোক বলে দাবি জানান এ চালক।

ঢাকা-মৌলভীবাজার রুটে চলাচালকারী হানিফ পরিবহনের চালক জমশের আলী বলেন, মহাসড়কে যদি তিন চাকার যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল বন্ধ হয় তাহলে দুর্ঘটনা ৯৯ শতাংশ কমে যাবে। দুর্ঘটনা রোধে পথচারী পারপারের জন্য আন্ডারপাস করে দিতে হবে।

ঢাকা-সুনামগঞ্জ রুটে চলাচলকারী হানিফ পরিবহনের আরেক চালক রহমত আলী বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড, মাধবপুর, শায়েস্তাগঞ্জ, শেরপুর এলাকায় তিন চাকার যানবাহন বেশি চলে। তিন চাকার গাড়িগুলো সিগন্যাল বোঝে না, আমাদের বড় গাড়িগুলোকে সাইড দিতে চায় না। হুট করে যেখানে সেখানে ব্রেক করে। এতে করে দুর্ঘটনা বেশি ঘটে।

তবে আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোডে চলাচলকারী বিল্লাল মিয়া নামে এক সিএনজি অটোরিকশার চালক বলেন, আমাদেরও তো পরিবার আছে। গাড়ি না চালালে পরিবার নিয়ে চলবো কিভাবে? জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুলিশের লাথি-গুতা খেয়েই তো গাড়ি চালাই। গাড়ি ধরলে টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনি।

Bbaria-highway-(3)

আরেক সিএনজি অটোরিকশা চালক জহিরুল ইসলাম বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পেটের দায়ে আমরা মহাসড়কে গাড়ি চালাই। পুলিশকে টাকা দিয়েই গাড়ি চালাতে হয়।

এদিকে মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে সকাল ৮টার পর থেকে গ্যাস পাম্পগুলোকে সিএনজি অটোরিকশাকে গ্যাস না দিতে নির্দেশনা দিয়েছে খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা পুলিশ। গ্যাস না থাকলে মহাসড়কে গাড়ি চালাতে পারবে না, এতে করে দুর্ঘটনাও কমে আসবে বলে দাবি পুলিশের।

এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হোসেন সরকার বলেন, টাকার বিনিময়ে মহাসড়কে তিন চাকার গাড়ি চলতে দেয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা নিয়মিত এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। অভিযানে গাড়ি আটক করে মামলা দিচ্ছি। গত তিন দিনে ৬০ থেকে ৭০টি সিএনজি অটোরিকশা আটক করেছি।

আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।