পুলিশের সহযোগিতায় পরিবার উচ্ছেদের অভিযোগ
সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশের এসআই হাজ্জাত মামুনের সহযোগিতায় ১২টি পরিবার উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে। লাঠিসোটা ও অস্ত্র নিয়ে ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামে ঘর বাড়ি ও দোকানে তালা লাগিয়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ সময় পুলিশের ফোর্স ও যশোর বেজপাড়া এলাকার জৈনিক শফিকুল ইসলাম মধুর বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে শনিবার এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তারা জানান, পুলিশ পিস্তল উঁচিয়ে তাদের গুলি করার হুমকি দিয়েছে। ‘তান্ডব’ শেষে একটি কালো রঙের মাইক্রোবাসে তারা সাতক্ষীরা সদর থানায় যায়। এসব ঘটনার নেতৃত্ব দেন যশোরের বেজপাড়া এলাকার মাহবুবুর রহমান মধু। তিনি পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বলেও জানিয়েছেন।
উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সদস্য রুস্তম আলিসহ অন্যরা জানান, মোহনপুর গ্রামের আনসার সরদারের ছেলে জামাল উদ্দিনের কাছ থেকে অনেক আগে দুই বিঘা জমি ক্রয় করে তারা ১২ জন বসবাস করে আসছেন। ওই জমি দাবি করে যশোরের জনৈক মাহবুবুর রহমান মধু আদালতে মামলা করেন। পরে মামলায় তিনি হেরে যান। এরই মধ্যে ওই জমি খাস খতিয়ানভুক্ত হয়ে গেছে। ফলে তারা ভূমি উন্নয়ন কর দিতে পারছেন না। এমনকি জমির মিউটেশনও বন্ধ রয়েছে।

তারা বলেন, কোনো ধরনের আইনগত নোটিশ ছাড়াই সাতক্ষীরা সদর থানার এসআই হাজ্জাত মামুন একদল পুলিশ নিয়ে সেখানে হাজির হন। সঙ্গে মাহবুবুর রহমান মধু ও তার বাহিনীর সদস্যরাও ছিলেন। তারা দোকান ও বাড়ি ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পুকুর থেকে মাছ ধরে বিক্রি করে দেয়।
ঘটনার বিষয়ে ঝাউডাঙা ইউপি সদস্য রুহুল আমিন জানান, যশোরের মাহবুবুর রহমান মধু গায়ের জোর দেখিয়ে জমি দখল করেছে। তারা (১২ জন) অনেক বছর আগে থেকেই ওখানে বসবাস করে আসছে।
অভিযোগের বিষয়ে সাতক্ষীরা থানার এসআই হাজ্জাত মামুনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এছাড়া উচ্ছেদে নেতৃত্ব দেয়া যশোর বেজপাড়া এলাকার মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মেয়ে পরিচয় দিয়ে একজন বলেন, তিনি অসুস্থ পরে কথা বলবেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দুই পক্ষের কথা শুনেছি। তারা থানায় এসেছিলেন। ঘরের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর উভয়পক্ষকে বসিয়ে কাগজপত্র দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আকরামুল ইসলাম/আরএস/এমএস